ভারত ম্যাচের আগে পাকিস্তানের অনুশীলন বাতিল, বাংলাদেশের সমর্থন চান অধিনায়ক!

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে প্রস্তুতিতে ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। কাতার থেকে দলের লাগেজ না পৌঁছানোয় বুধবার কিংস অ্যারেনায় নির্ধারিত অনুশীলন বাতিল করতে হয়েছে তাদের। এর মধ্যে প্রবাসী ফুটবলারদের কয়েকজনকে ছাড়াই টুর্নামেন্ট শুরু করতে হচ্ছে দলটিকে। এমন পরিস্থিতিতেও ভারতের বিপক্ষে ভালো লড়াইয়ের প্রত্যয় অধিনায়ক আলমগীর গাজীর। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দর্শকদের সমর্থনও প্রত্যাশা করছেন তিনি।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের পূর্ণাঙ্গ দল এখনো ঢাকায় পৌঁছায়নি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিকে বিশেষ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক আলমগীর। তার মতে, দুই দলের জন্যই ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর প্রসঙ্গ উঠলেও সেটিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন না তিনি। কারণ পাকিস্তানও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না।

আলমগীর বলেন, ‘ফুটবল ফুটবলই। তাদেরও ভালো দল আছে। এমনকি তাদের দ্বিতীয় দলটিও ভালো। কারণ আমরাও অর্ধেক খেলোয়াড়কে পাচ্ছি না। তবে এটি কোনো অজুহাত নয়। আমরা নিজেদের ফুটবল খেলব এবং ভারতের বিপক্ষে ভালো লড়াই করব।’

ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে কঠিন সময় উপহার দিতে চান পাকিস্তান অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘এটি সবার জন্য, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য বিশেষ ম্যাচ। আমরা ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করব এবং তাদের কঠিন সময় দিতে চাই।’

এবারের সাফে নিজেদের লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেছেন আলমগীর। সম্প্রতি আসিয়ান কাপে ভালো পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তারা। অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা এবং ভালো একটি টুর্নামেন্ট কাটানো। আসিয়ান কাপে আমরা ভালো খেলেছি। সেখানে যা করেছি, এখানেও সেটি করার চেষ্টা করব।’

শুধু ভালো খেলাই নয়, টুর্নামেন্ট জয়ের স্বপ্নও দেখছে পাকিস্তান। অধিনায়কের বিশ্বাস, বর্তমানে দলে থাকা ফুটবলাররাও অভিজ্ঞ। নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকায় তাদের নিয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব। তবে পূর্ণাঙ্গ দল পেলে শক্তি আরও বাড়ত বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের দর্শকদের সমর্থনও প্রত্যাশা করছেন আলমগীর। গত মৌসুমে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে খেলেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখানকার দর্শকদের সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী পাকিস্তান অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সমর্থন করবে। গত মৌসুমে এখানে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলেছি। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করে। ভারতের বিপক্ষেও তারা আমাদের সমর্থন করবে বলে আশা করি।’

ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে মাঠের বাইরের নানা আলোচনা থাকলেও ফুটবলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন আলমগীর। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষেই তার অবস্থান। তিনি বলেন, ‘এটি ক্রিকেট নয়, ফুটবল। এ কারণেই খেলাটি সুন্দর। প্রয়োজন হলে আমরাও একইভাবে সৌহার্দ্য দেখাব।’

বাংলাদেশের মাঠ ও কন্ডিশন নিয়েও স্বস্তিতে পাকিস্তান অধিনায়ক। দেশটির কয়েকজন ফুটবলার বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। ফলে এখানকার মাঠের সঙ্গে তাদের পরিচিতি রয়েছে। আলমগীরের মতে, বাংলাদেশের পিচ পাকিস্তানের মতোই। তাই কন্ডিশন নিয়ে বাড়তি কোনো সমস্যা হবে না।

পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের তিন-চারজন খেলোয়াড় এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবে খেলছে। এটি আমাদের জন্য সুবিধা। আমরা এখানকার মাঠের সঙ্গে পরিচিত। পাকিস্তানের মাঠের সঙ্গেও এর মিল রয়েছে। তাই এটি আমাদের জন্য বড় কোনো সমস্যা নয়।’

২০০৩ সালের সাফে ঢাকায় ভারতকে হারানোর স্মৃতি এবারও পাকিস্তানকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তবে অতীতের সেই সাফল্যের চেয়ে বর্তমান দল নিয়ে ভালো ফুটবল খেলাই এখন কোচ টাইটাস বাম্বালের দলের লক্ষ্য।