যে কারণে জিমি আবার হকি দলের অধিনায়ক

রাসেল মাহমুদ জিমিহকি অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম রাসেল মাহমুদ জিমি। চলতি বছরের ১০ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। সেজন্য ফেডারেশন একটি কমিটিও গঠন করেছিল। মার্চের পর আর জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি জিমি। ছিলেন না এশিয়া কাপের ক্যাম্পেও। কিন্তু ‘দেশের স্বার্থে’ এশিয়া কাপের আগে তাকে ফেরানো হয়েছে জাতীয় দলে।

দেশের সবচেয়ে বড় হকি তারকার জীবনে এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৩ সালে এশিয়া কাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জিমিসহ কয়েকজন খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে নিষিদ্ধ করেছিল ফেডারেশন। তবে বছরখানেক পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। ওই এশিয়া কাপের আগে জাতীয় দলের নেতৃত্ব ছিল জিমির কাঁধে।

এবার তার ফেরায় ভূমিকা রেখেছে কামরুল ইসলাম কিসমতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি। ঘরের মাঠে এশিয়া কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে জিমিকে প্রয়োজন মনে করেছেন নির্বাচকরা। যদিও ছয় সদস্যের কমিটির চারজনই আগেরবার তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

বুধবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন অডিটরিয়ামে ‘এশিয়া কাপ ও বাংলাদেশের হকি’ শিরোনামে এক সেমিনারে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন কামরুল ইসলাম কিসমত। এশিয়া কাপের দলে জিমিকে রাখা প্রসঙ্গে নির্বাচক কমিটির প্রধানের মন্তব্য, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্টে জিমির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা ছিল। কিন্তু কী ব্যবস্থা, সে ব্যাপারে কিছু বলা ছিল না। তাই আমরা জিমির ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি।’

মূলত হকি ফেডারেশনের সভাপতির কাছ থেকে চিঠি পেয়েই জিমির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসে নির্বাচক কমিটি। এ বিষয়ে কিসমতের বক্তব্য, ‘সভাপতির কাছ থেকে চিঠি পেয়ে নির্বাচক কমিটির সঙ্গে আমি সভায় বসি। দেশের বাইরে টুর্নামেন্ট হলে বেশিরভাগ সাংবাদিক-দর্শক খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এবার দেশের মাঠে এত বড় একটা টুর্নামেন্ট। জিমির মতো একজন খেলোয়াড় না থাকলে টুর্নামেন্টের জৌলুশ অনেক কমে যাবে। আমি নির্বাচক কমিটির প্রত্যেকের সিদ্ধান্ত শুনতে চেয়েছি। সবাই একমত হয়েই জিমিকে ৩৫ জনের প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছে।’

জিমির অভিজ্ঞতা আর পারফরম্যান্স তাকে অধিনায়ক হিসেবে এগিয়ে রেখেছে বলে জানালেন নির্বাচক কমিটির প্রধান, ‘সভাপতির কাছে ৩৫ জনের দল পাঠানোর পর তিনি জানতে চান, জিমিকে চূড়ান্ত দলে রাখা যায় কিনা। তারপরই আমরা তাকে চূড়ান্ত দলে রেখে দেই। আমরা মনে করি, জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন তার সবই জিমির মধ্যে রয়েছে। আমরা সবাই একমত হয়েই তার ওপর নেতৃত্বভার তুলে দিয়েছি।’

গত মাসের শেষ দিকে জিমিকে অধিনায়ক করে ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে নির্বাচক কমিটি। আগামী ১১ অক্টোবর থেকে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপে বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। স্বাগতিক দলের তিন গ্রুপসঙ্গী ভারত, পাকিস্তান ও জাপান। ‘বি’গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, চীন আর ওমান। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ২২ অক্টোবর।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল : রাসেল মাহমুদ জিমি (অধিনায়ক), আশরাফুল ইসলাম, খোরশেদুর রহমান, অসীম গোপ, আবু সাইদ নিপ্পন, ফরহাদ আহমেদ সিটুল, রেজাউল করিম বাবু, ইমরান হাসান পিন্টু, মামুনুর রহমান চয়ন, রুম্মান সরকার, নাইম উদ্দিন, হাসান জুবায়ের নিলয়, সারোয়ার হোসেন, কামরুজ্জামান রানা, পুস্কর খিসা মিমো, মিলন হোসেন, মাইনুল ইসলাম কৌশিক ও আরশাদ হোসেন।