সুসজ্জিত মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের টানেল দিয়ে খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশ করতেই চারদিকে আলোর রোশনাই। খেলার ফাঁকে ফাঁকে বাদ্য-বাজনা তো ছিলই। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ শুরুর মাধ্যমে রঙিন এক যুগে প্রবেশ করেছে দেশের হকি। আর উদ্বোধনী ম্যাচ জিতে স্মরণীয় হয়ে থাকলো একমি চট্টগ্রাম।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ ম্যাচে ভারতের ফরোয়ার্ড দেভিন্দার ভালমিকির জোড়ায় চট্টগ্রামের দলটি ৩-২ গোলে হারিয়েছে সাইফ পাওয়ার গ্রুপ খুলনাকে।
৬০ মিনিটের ম্যাচটি চার কোয়ার্টারে হয়েছে। ১৫ মিনিটের প্রথম কোয়ার্টারে কোনও দল গোলের দেখা পায়নি। দুটো পেনাল্টি কর্নার পেয়েও একমি চট্টগ্রাম তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।
গোলের সূচনা হতে থাকে দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকে। ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সাইফ পাওয়ার গ্রুপ খুলনার তানজীম আহমেদ প্লেসিং করার চেষ্টা করলেও তা দূরের পোস্ট দিয়ে যায়।
৩ মিনিট পর একমি চট্টগ্রামের অস্ট্রিয়ান খেলোয়াড় মরিস ফ্রে বক্সের সামন থেকে হিট নিলে গোলকিপার তা প্রতিহত করেন।
২৪ মিনিটে একমি চট্টগ্রাম পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে। গোলকিপার বিপ্লব কুজুর সরাসরি আশরাফুল আলমকে পায়ে আঘাত করেন। তাতে পেনাল্টি পেয়েও ভারতের দেভিন্দার বালমিকির হিট লাগে পোস্টে।
দুই মিনিট পর একমি গোল করে এগিয়ে যায় পেনাল্টি কর্নার থেকে। ফ্লোরিয়ান এলভিসের পুশে রেজাউল করিম বাবুর থামানো বলে দেভিন্দার বালমিকি দারুণ হিটে লক্ষ্যভেদ করেন।
৩৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সমতায় ফেরে সাইফ পাওয়ার খুলনা। খোরশেদের হিট গোলকিপার ঠিকমতো ফেরাতে পারেননি। তানজীম আহমেদ সামনে থেকে বল পেয়ে প্লেসিং করে দলে স্বস্তি ফিরিয়েছেন।
৩৮ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় চট্টগ্রাম। পেনাল্টি কর্নার থেকে ফ্লোরিয়ান এলভিসের পুশে দেবেন্দ্র বালমিকির ড্র্যাগ ফ্লিকে পোস্ট কেঁপে উঠে।
৫৩ মিনিটে একমি স্কোরলাইন ৩-১ করে। হাফিজ জয়নুলের কাটব্যাক থেকে রাজিব দাশের স্টিক ছুঁয়ে বক্সের সামনে থেকে ফ্লোরিয়ান এলভিস স্পার্লিং ফ্লিকে দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেছেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে পেনাল্টি কর্নার থেকে খোরশেদুর রহমান গোল করে ব্যবধান কমালেও সাইফ পাওয়ার খুলনার হার এড়াতে পারেনি। ম্যাচ সেরা হয়েছেন একমির হাফিজ জয়নুল।