এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ হকি দল। এর পরও জার্মানির অভিজ্ঞ কোচ গেরহার্ড পিটারকে আবার দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে সামনে এসেছে আরেক জটিলতা। নেদারল্যান্ডসে ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স হকি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় দেশে ফেরেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার কারণে ইউরোপের দূতাবাসগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন হকি ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা। তার মতে, জার্মানির ভিসা না পাওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে।
আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর ভারতের পাঞ্জাবে হবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। পাকিস্তান অংশ না নেওয়ায় শেষ মুহূর্তে এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার থেকে লাল-সবুজ দলের অনুশীলন শুরুর কথা রয়েছে। এর আগে আবারও কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জার্মানির গেরহার্ড পিটারকে। তবে তার অধীনে দলের পারফরম্যান্স এবং কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হকি ফেডারেশনের সহসভাপতি সাজেদ আদেল।
জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে সপ্তম হয়েছিল বাংলাদেশ। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পাশাপাশি প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সও দেখাতে পারেনি দল। জাতীয় দলকে দীর্ঘমেয়াদে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া এবং পিটারকে জার্মানি থেকে উড়িয়ে আনার পরও আশানুরূপ ফল মেলেনি। জার্মানিতে অনুশীলন ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা না পাওয়ায় সেখানে যেতে পারেনি দল।
এ বিষয়ে সাজেদ আদেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পিটারকে আবার কোচ করা হয়েছে দেখে আমিও অবাক হয়েছি। জাপানে দেখেছি, তার কোনও গেমপ্ল্যান ছিল না। জার্মানিতে অনুশীলন ম্যাচ খেলার আশাও দেখিয়েছিলেন, কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি। তাকে আবার আনার বিষয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভালো বলতে পারবেন।’
তবে পিটারের অধীনে বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে বলে মনে করেন হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স। তিনি বলেন, ‘পিটারের অধীনে বাংলাদেশ উন্নতি করছে। আগামী বছর মার্চে আমাদের ৩০ জন খেলোয়াড় জার্মানির লিগে খেলবেন। পিটার সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এ ছাড়া আমাদের অর্থের সমস্যা রয়েছে। অনেক কিছু বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হয়।’
এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশ দলের জার্মানি সফর না হওয়া প্রসঙ্গে প্রিন্স জানান, নেদারল্যান্ডসে ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স হকি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-৫০ প্রবীণ দলের দুই খেলোয়াড় দেশে ফেরেননি বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার দাবি, এ ঘটনার পর ইউরোপের দূতাবাসগুলো সতর্ক রয়েছে এবং বিষয়টি তাদের নজরেও এসেছে।
প্রিন্স বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-৫০ ভেটেরান হকি দল নেদারল্যান্ডসের রটারডামে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স হকি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। সেখান থেকে দুজন খেলোয়াড় ফেরেননি। এ নিয়ে এখানকার ইউরোপীয় দূতাবাসগুলো সতর্ক। আমাদের বিষয়টি নোটিশও করেছে। এটা একটা কারণ। তাই আমরা জার্মানির ভিসা সে সময় পাইনি।’
তিনি আরও জানান, দুই খেলোয়াড়ের বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও জানতে চেয়েছে, কারণ তারা সরকারি আদেশ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। পিটার ঢাকায় এসে ১৫ অক্টোবর দূতাবাসের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করবেন বলেও জানা গেছে। এর মাধ্যমে জার্মানির লিগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের পথ সহজ করার আশা করা হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসে দল পাঠানো নিয়ে আগের অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন প্রিন্স। তার দাবি, ওই দলের বাচ্চু গাজী ও অনিক ইসলাম দেশে ফেরেননি। এ ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রিন্স বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসে দল পাঠানো নিয়ে আগের অ্যাডহক কমিটিতে বড় রকমের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এর মধ্যে বাচ্চু গাজী ও অনিক ইসলাম দেশে ফেরেননি। আমরা অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনতে যাচ্ছি। শোকজ করা হচ্ছে। এতে ফেডারেশনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাদের কারণে এখন জাতীয় দলের জন্য বিদেশে খেলতে যেতে সমস্যা হচ্ছে।’
তবে ভেটেরান হকি খেলোয়াড়দের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খাজা লতিফ মুন্নার বক্তব্যে এসেছে ভিন্ন তথ্য। তার দাবি, বাচ্চু গাজীর আগে থেকেই ইংল্যান্ডের ভিসা ছিল এবং তিনি নেদারল্যান্ডস থেকে সেখানে গেছেন। অনিক ইসলামের বিষয়ে অবশ্য তার কাছে কোনও তথ্য নেই।
মুন্না বলেন, ‘বাচ্চু গাজীর আগেই ইংল্যান্ডের ভিসা ছিল। সে নেদারল্যান্ডস থেকে ওখানে গেছে। অনিক ইসলামের কোনও খবর নেই। বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে টাকা লেনদেন হয়েছে কি না, আমরা জানি না। আর জার্মানির জন্য জাতীয় দলের ভিসা না হওয়ার পেছনে দুজনের ফিরে না আসার বিষয়টি আছে বলে আমার মনে হয় না। এখানে পিটারের কারণে কিছু একটা হতে পারে।’