অদম্য সাহসী শরণার্থী তরুণীর গল্প

ইয়ুসরা মারদিনিইয়ুসরা মারদিনি। সিরিয়ার সেরা সাঁতারু ছিলেন একসময়। অংশ নেন ২০১২ সালের ফিনা বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপেও। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে শুরু হলে মৃত্যুর মিছিলের মধ্যে পড়েও প্রাণরক্ষা হয়েছিল কোনওমতে। আগুনে তাদের বাড়ি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল। রাজধানী দামেস্কে যে সুইমিং পুলে দাপিয়ে বেড়াতেন সেটির ছাদ বোমার আঘাতে ভেঙে পড়েছিল। অষ্টাদশী মারদিনির কাছে জীবনটাই যেন যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ফলে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার। লেবানন হয়ে তুরস্কে এসে সেখান থেকে মোটরচালিত রাবারের ডিঙিতে করে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। মাঝসাগরে ডিঙির মোটর নষ্ট হয়ে গেলে চার ঘণ্টা সাঁতরে সেই ডিঙি ঠেলেছিলেন মারদিনি। নিজে বাঁচার সঙ্গে সঙ্গে বীরত্বের সাথে বাঁচিয়েছিলেন ডিঙিতে থাকা অন্যদেরও।ইয়ুসরা মারদিনি

সার্বিয়া, হাঙ্গেরি এবং অস্ট্রিয়া ঘুরে আশ্রয় নেন জার্মানিতে। সেখানে পুনরায় শুরু করেন সাঁতার-অনুশীলন। ‘বিশেষ টিমে’র অংশ হয়ে পৌঁছে যান রিও অলিম্পিকে।

রিও'র সুইমিংপুলে নেমেই অলিম্পিক জয় করলেন ইয়ুসরা মারদিনি। দেশ যুদ্ধবিদ্ধস্ত সিরিয়া। কিন্তু ব্রাজিলের অলিম্পিকে এসেছেন শরণার্থী দলের হয়ে। টিনএজার ইয়ুসরা সেই দলটির প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে নেমেছিলেন অলিম্পিকে প্রতিযোগিতা করতে। সবার হৃদয় জয় করেছেন এই সাঁতারু।

১০০ মিটার বাটারফ্লাই হিটে জিতেছেন ১৮ বছরের ইয়ুসরা। সময় নিয়েছেন ৯.২১ সেকেন্ড। কিন্তু সব মিলিয়ে তার অবস্থান ৪১তম। সেমিফাইনালে লড়ার যোগ্যতা পায় মোটে ১৬ জন। সেই তালিকায় না থাকলেও ইয়ুসরা আসলে এবারের অলিম্পিকের হিরো।ইয়ুসরা মারদিনি

/এমআর/