‘আবাহনী ক্লাবেও আক্রমণ করে ঘাতকরা’

রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আবাহনীর কর্মকর্তারা। ‘সুদূরপ্রসারী চিন্তা চেতনা ও আধুনিক ধ্যান-ধারণার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের ক্রীড়াঙ্গন উজ্জ্বল করার স্বপ্ন দেখতেন শেখ কামাল। আর তার এই অনন্য বৈশিষ্ট্যই তাকে নিয়ে এসেছিল নেতৃত্বের আসনে; বয়সে ছোট হলেও তার ভিশন দেখে আমরা অভিভূত হতাম। শেখ কামাল নিজের যোগ্যতার প্রমাণ তার কর্মেই দিয়ে গেছেন।’ এ কথাগুলো বলছিলেন বঙ্গবন্ধু তনয় শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আজকের আবাহনী লি.- এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

জাতীয় শোক দিবসে আবাহনী প্রতিষ্ঠাতার প্রয়াত আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি শেখ কামালের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা, দোয়া করি তার মাগফেরাতের। তার কথা মনে হলেই মনে পড়ে একজন কর্মঠ, প্রাণচঞ্চল ক্রীড়ামোদী মানুষকে; যার চিন্তায় চেতনায় ছিল খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। আবাহনী আজ শুধু খেলায় সম্পৃক্ত কিন্তু একসময় এটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তৎপর ছিল ।’

কী সেই অগ্রসর চিন্তার উদাহরণ? এমন প্রশ্নের উত্তরে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আজকের আবাহনীই তো তার উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি এমন একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন যেটি হবে ভিন্ন ধারার, স্পোর্টস ক্লাবের সর্বাগ্রে প্রয়োজন নিজের মাঠ। সেটি তিনি আমাদের মতো বেশ কিছু তরুণকে সংগঠিত করে আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে নিশ্চিত করেন। আবাহনীর ধানমণ্ডি যেন খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত থাকে এটিতো শেখ কামালেরই প্রয়াস। এরপর আবাহনী ফুটবল দলের জন্য ইংল্যান্ড থেকে উইলিয়াম বিলহার্টকে এনেছিলেন তিনি, স্বাধীনতার পর প্রথম কোনও ক্লাবের বিদেশি কোচ আবাহনীই এনেছিল। সবসময়ই তিনি বলতেন আবাহনীর খেলার ও খেলোয়াড়দের স্টাইল যেন ভিন্ন হয়। এটি যেন হয় আকর্ষণীয়, নইলে এর প্রতি মানুষ ঝুঁকবে না। বলাই বাহুল্য আবাহনী তার ভিন্ন আমেজ দিয়েই মানুষের মন জয় করেছিল।’

তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘শেখ কামাল ছিলেন একজন প্রকৃত সংগঠক। যুব সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্যই তিনি আবাহনী প্রতিষ্ঠা করেন, তবে তিনি শুধু আবাহনীরই কর্মকর্তা ছিলেন না। তিনি সেসময় আরও কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। খেলাধুলার বিকাশ ও বিস্তৃতির চিন্তায় সর্বদাই তিনি ছিলেন মগ্ন। নিজে ফুটবল, ক্রিকেট ভলিবল খেলতেন। ছিলেন স্প্রিন্টার, সেতার বাঁজিয়ে গান গাইতেন, নাটক করতেন-এমন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন শেখ কামাল। খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ জীবন যাতে নির্বিঘ্ন হয় সেজন্য বঙ্গবন্ধুকে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করার কথা তিনি বারবার বলতেন।’

এসময় বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হত্যার পর আবাহনী ক্লাবেও আক্রমণের ঘটনার কথা বলেন হারুনুর রশিদ-  ‘৩২ নম্বরের মিশন শেষ করার ২০ মিনিট পর আবাহনী ক্লাবেও আক্রমণ করে ঘাতকরা। ভেঙে ফেলে কাপ শিল্ডসহ অনেক কিছু। আমার মনে হয় শেখ কামালের কোনও চিহ্নই তারা রাখতে চাচ্ছিল না। আমরা অনেক কষ্ট করে পরবর্তীতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নেই যে শেখ কামালকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আবাহনীকে বাঁচাতে হবে। খেলোয়াড়দের বিভিন্ন বাসায় রেখে আমরা আবার ফুটবল দলটিকে সংগঠিত করি। আজকের হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেকের বাসায় হয়েছিল আমাদের প্রথম সভাটি। শোকের ১৫ আগস্টের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে যখন আবাহনী দল মাঠে ঢুকে তখন যে বিপুল করতালি হয়েছিল, তা ছিল এক বিরল ঘটনা। আর সে ম্যাচে দিলকুশাকে হারানোর পর খেলোয়াড়দের মাথায় তুলে নেওয়া হয়েছিল। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম আবাহনী বেঁচে আছে আর এর মাঝে বেঁচে আছেন শেখ কামাল।’

এদিকে রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আবাহনীর কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি, কাজী ইনাম আহমেদ, মীর নিজাম উদ্দীন আহমেদ, দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুল, গোলাম রব্বানী হেলাল।

/এফআইআর/