মেজবাহর রেকর্ড, শিরিনই দ্রুততম মানবী

আবারও দ্রুততম মানব-মানবী মেজবাহ ও শিরিনআগে থেকেই অনুমেয় ছিল দ্রুততম মানব-মানবী হচ্ছেন মেজবাহ আহমেদ ও শিরিন আক্তার। রবিবার জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ৪১তম আসরে সেই অনুমানই সত্যি হলো। জাতীয় আসরে টানা সপ্তমবারের মতো দ্রুততম মানব হয়েছেন নৌবাহিনীর মেজবাহ আহমেদ। ১০.৭৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। এ নিয়ে সপ্তমবার দ্রুততম মানব হয়ে ছুঁয়েছেন সাবেক অ্যাথলেট মোশাররফ হোসেন শামীমের রেকর্ড। একসময়ের সেরা এই অ্যাথলেটও সাতবার হয়েছেন দ্রুততম মানব।

শুধু মেজবাহ নন, নৌবাহিনীর হয়ে শিরিন আক্তারও এগিয়ে চলেছেন। শনিবার জিতেছিলেন ২০০ মিটার স্প্রিন্টের শিরোপা, রবিবার জিতলেন আবার ১০০ মিটারের শ্রেষ্ঠত্ব। ১২.২৭৯ সেকেন্ডে সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এই অ্যাথলেট।

মেজবাহর পথ অবশ্য সহজ ছিল না। কঠিন চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন নৌবাহিনীর আরেক অ্যাথলেট আব্দুর রউফ। ১০.৭৯৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি জিতেছেন রুপা। দৌড় শেষ করে মেজবাহ নিজের লক্ষ্যের কথা ভাগাভাগি করলেন এভাবে, ‘আমার লক্ষ্যই ছিল ১০০ মিটারে টানা সাতবার সেরা হয়ে শামীম ভাইয়ের রেকর্ডটা ছোঁয়ার, আর আটবারের মতো সেরা হয়ে ১০০ মিটার থেকে অবসর নেব। অবসরের আগে এসএ গেমসে দেশকে কিছু দিতে চাই।’

আগামী বছর অস্ট্রেলিয়াতে কমনওয়েলথ গেমসে ভালো করার লক্ষ্য তার, ‘এসএ গেমসের আগে কমনওয়েলথ গেমস আছে। সেখানে নিজের সেরাটা দিয়ে সেমিফাইনালে খেলতে চাই। ১০.৫০ সেকেন্ড টাইমিং করতে পারলে তা সম্ভব। আর দেশে অভিজ্ঞতা দিয়েই জিতে চলেছি। অনেক সময় উসাইন বোল্টও ভগ্নাংশ সেকেন্ডে পার পেয়ে গেছেন। আমি দুইবার রউফের সঙ্গে জিতেছি অল্প ব্যবধানে। আসলে টেকনিকের কারণেই আমি প্রথম হয়েছি।’

শিরিন আক্তার ১২.২৭৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েই খুশি। টানা ছয়বার জাতীয় পর্যায়ের সেরা তিনি। ১০০ মিটার জেতার পর বলেছেন, ‘ভালো লাগছে। জাতীয় আসরে চতুর্থবারের মতো সোনা জিতলাম। এখন আমার লক্ষ্য নিজের সেরা টাইমিং গড়া। এখন আরও ভালো করতে চাই। নিজের টাইমিং আরও উন্নত করতে পারলে ভালো লাগবে।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘লাভলী (সুলতানা) আপা টানা সাতবার সেরা হয়েছিলেন। আমি সেই জায়গাটা স্পর্শ করতে চাই। আন্তর্জাতিক পদক পেতে এই পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয়। তবে একটানা ভালো ট্রেনিং দেওয়া হলে আমি বিশ্বাস করি এসএ গেমসে সোনা জিততে পারব।’