জরুরি অবস্থা জারির পর মালের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসীদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বহু বাংলাদেশির মতো তাই আমজাদ হোসেনের অবরুদ্ধ জীবন কাটছে। দ্বীপ দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘এমনিতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। তবে সবাইকে সতর্ক হয়ে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। সবার মতো আমিও দেশটির রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি, সতর্ক থাকছি। বাঙালিদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি।’
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক অবশ্য কণ্ঠের আতঙ্ক লুকিয়ে রাখতে পারলেন না, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সবার মনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কখন কী থেকে কী ঘটে যায়! আমরা কাজ করতে এদেশে এসেছি, আতঙ্ক তো একটু থাকবেই।’
তবে অন্যদের চেয়ে আমজাদ হোসেন ভালো আছেন। তিনি জানালেন, ‘আমার অধীনে যারা খেলে তাদের বেশিরভাগই ডিফেন্সের খেলোয়াড়। বাসার বাইরে গেলে তাদের কেউ না কেউ আমার সঙ্গে থাকে। জরুরি অবস্থার মধ্যেই একদিন সাহস করে বাইকে চড়ে মালেতে ঘুরেছি, কোনও সমস্যা হয়নি। তবে সামনে কী হয় বলা কঠিন।’
বাংলাদেশের কোনও খেলোয়াড়ের ভিন্ন দেশের কোনও খেলার প্রধান কোচ হওয়ার উদাহরণ নেই-ই বলা যায়। সেদিক দিয়ে আমজাদ হোসেন ব্যতিক্রম। মালদ্বীপে তার মাসিক বেতন ৮০০ ডলার, আর থাকা-খাওয়া ফ্রি। বছরে এক মাসের ছুটিতে ঢাকায় চলে আসেন, বিমান ভাড়া বহন করে মালদ্বীপ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। তিনি বললেন, ‘আগে মালদ্বীপে হ্যান্ডবলের তেমন জনপ্রিয়তা ছিল না। আমি এখানে এসে খেলাটাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার অধীনে ২০১৬ সালে ভারতের শিলং-গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে অংশ নিয়েছিল মালদ্বীপ। ওই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সঙ্গে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়ে আমার দল। আশা করি, ভবিষ্যতে মালদ্বীপ আরো ভালো করবে। এখানে বাংলাদেশি হিসেবে সম্মানের সঙ্গে যে কাজ করছি, এটাই আমার কাছে অনেক কিছু। ভবিষ্যতে কোচ হিসেবে বাংলাদেশেরও সেবা করতে চাই।’