বাকী-শাকিলের দিল্লি জয়ের স্বপ্ন

শাকিল আহমেদ (বাঁয়ে) ও আব্দুল্লাহ হেল বাকীঅলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ ১৯৮৪ সালে, লস অ্যাঞ্জেলসে। তিন যুগ হতে চললেও বিশ্বের সেরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদক দূরের কথা, বিন্দু মাত্র লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়াইল্ড কার্ড বা বিশেষ বিবেচনায় সুযোগ প্রাপ্তিতেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে হচ্ছে। তবে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ওয়াইল্ড কার্ডের সৌজন্যে নয়, সরাসরি অংশ নিতে চান দেশের দুই শুটিং তারকা আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও শাকিল আহমেদ।

গত বুধবার ভারতের দিল্লিতে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ শুটিং। এ প্রতিযোগিতায় রাইফেল ও পিস্তল ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে লাল-সবুজ দল। এ বছর শুটিংয়ের চারটি বিশ্বকাপ হবে ভারত, চীন, ব্রাজিল ও জার্মানিতে। চার বিশ্বকাপে কোটা প্লেস বা যোগ্যতা অর্জন করা শুটাররা সরাসরি অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আর বাংলাদেশও তাকিয়ে এই কোটা প্লেসের দিকে।

২০১৪ ও ২০১৮ সালে টানা দুটি কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে রুপা জয়ী বাকী দিল্লিতে সাফল্য পেতে আত্মবিশ্বাসী। ভারতে রওনা হওয়ার আগে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘দিল্লিতে নিজের সর্বোচ্চ স্কোর করে সেরা আটে থাকতে চাই। সেরা আটে থাকতে পারলে পদক জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। আর তাহলেই কোটা প্লেস নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।’

বাকী জানিয়েছেন, ‘কোটা প্লেসে থাকতে হলে ৬২৬ থেকে ৬২৭ স্কোর প্রয়োজন। অনুশীলনে ৬২৫ থেকে ৬২৬ স্কোর হচ্ছে আমার। এখানে একটা ব্যাপার আছে। এরই মধ্যে বিদেশের চারজন শুটার টোকিও অলিম্পিকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। দিল্লিতে তাদের সঙ্গে সেরা আটে থাকতে পারলে আমাদের কারও কোটা প্লেস নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। তবে তাদের কেউ সেরা আটে থাকতে না পারলে আমাদের সেরা  তিনের মধ্যে থাকতে হবে।’

গত বছর ক্লাভস ক্রিস্টেনসনের অধীনে কমনওয়েলথ গেমসে রুপা জিতেছিলেন বাকী। আর্থিক সমস্যার কারণে ক্রিস্টেনসনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি শুটিং ফেডারেশন, গত অক্টোবরে ফিরে গেছেন এই ডেনিশ কোচ। বাকী তাই বেশ হতাশ, ‘ডেনিশ কোচ থাকলে ভালো হতো। তার অধীনে আমার স্কোর নিয়ন্ত্রণে ছিল। অবশ্য স্থানীয় কোচের অধীনে অনুশীলন খারাপ হয়নি। দিল্লিতে ভালো করার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।’

গত বছর বাকীর সঙ্গে শাকিলও রুপা উপহার দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। তবে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ৫০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে সাফল্য পেলেও দিল্লিতে কঠিন পরীক্ষায় পড়ার আশঙ্কা তার মনে, ‘এটাই বছরের প্রথম বিশ্বকাপ। সারা পৃথিবীর সেরা শুটাররা অংশ নেবে এই প্রতিযোগিতায়। তাই চ্যালেঞ্জটাও কঠিন হবে। সেরা আটে জায়গা করে নিতে পারলে আশা করি ফাইনালে ভালো ফল করতে পারবো। প্র্যাকটিসে ৫৭৭ থেকে ৫৮২ স্কোর করছি। দিল্লিতে এই স্কোর ধরে রাখতে চাই।’