‘লন্ডন কন্যার’ বাসায় যেন ঈদের আনন্দ!

২০০১ সালে লন্ডন পাড়ি জমান জোবায়ের আহমেদ ও রোজিনা আহমেদ দম্পতি। তাদের বড় মেয়ে জুনায়না আহমেদের জন্ম সেখানেই। বেড়ে ওঠাও একই জায়গায়। সেই লন্ডন কন্যাই মাতৃভূমির টানে চার বছর আগে জাতীয় প্রযোগিতায় পান সাফল্য। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিটা বুঝি এবার ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে টোকিও অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়া। আর এই খবর শুনে যেন আগাম ঈদের আনন্দ লেগে গেছে জুনায়নার পরিবারে!

বাবা জুবায়ের আহমেদ খুব স্বপ্ন দেখতেন মেয়ে বাংলাদেশের হয়ে পুল মাতাবেন। দেশের হয়ে একসময় অংশ নেবেন অলিম্পিকে। তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়াতে সুনামগঞ্জ থেকে লন্ডনে পাড়ি জমানো জুবায়ের-রোজিনা দম্পতি দারুণ উচ্ছ্বসিত।

জোবায়ের নিজেই লন্ডন থেকে ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে অনূভুতি প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘আমাদের স্বপ্ন আমাদের মেয়ে জুনায়না দেশের হয়ে অলিম্পিকে যাবে। সেই আশা এতো তাড়াতাড়ি পূর্ণ হবে চিন্তাও করিনি। বলতে পারেন আমাদের পরিবারের সবাই এখন অনেক খুশি।এ যেন ঈদের আগেই ঈদের আনন্দ। ঈদের আগে বড় উপহার বলতে পারেন।’

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুনায়না প্রথমবারের মতো ২০১৭ সালে জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারে অংশ নিয়েছিলেন। সেবার ১০টি সোনার পদক জিতে রেকর্ড গড়ে হয়েছিলেন সেরা সাঁতারু।

দুই বছর পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ব সাঁতারেও অংশ নেন তিনি। সেখানে ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে অংশ নিয়ে ৩০.৯৬ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করেছিলেন। আর এই টাইমিং নিয়েই অলিম্পিকে জায়গা করে নিয়েছেন জুনায়না।

জুনায়না নিজেও চাইছেন আসন্ন অলিম্পিকে অন্তত কোরিয়ার টাইমিংকে ছাড়িয়ে যেতে। বাংলা সেভাবে বলতে পারেন না যদিও। তবে কিছুটা বোঝেন। ইংরেজিতেই বেশি সাবলীল তিনি। অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে পারবো জেনে আমি অনেক আনন্দিত। এরজন্য পরিশ্রমও করে যাচ্ছি। আসলে মাতৃভূমির জন্য অংশ নিতে পারাটা অনেক আনন্দের। অলিম্পিকের লক্ষ্যে লন্ডনে গত সপ্তাহে আমার সুইমিং ক্লাবে অনুশীলন শুরু হয়েছে। আশা করছি, ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারলে ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে অন্তত ২৮ সেকেন্ডের মধ্যে সাঁতার শেষ করতে পারবো।’

আগামী ৩০ জুন জুনায়না ১৮ বছরে পা দিতে যাচ্ছেন। এর পরেই রয়েছে টোকিও অলিম্পিক। অলিম্পিকের মতো গেমসে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিতে গিয়ে সাফল্য পাওয়াটা বেশ কঠিন। এর পরেও লন্ডন প্রবাসী জুনায়না নিজের সেরা টাইমিং করতে চাইছেন। যাতে ভবিষ্যতে সেটি চলার প্রেরণা হয়ে থাকে।