১৯৮৪ সালে প্রথম অলিম্পিকে অংশ নেয় বাংলাদেশ। সেখানে একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে খেলেন অ্যাথলেট সাইদুর রহমান। এরপর থেকে নিয়মিত অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করলেও কোনওবারই সরাসরি খেলার জন্য যোগ্যতা অর্জন করা যায়নি। প্রতিবারই খেলতে হয়েছে ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে। শুধু ২০১৬ সালে গলফার সিদ্দিকুর রহমান সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার তো রোমান সানা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে লড়াই করেই জায়গা করে নেন টোকিও অলিম্পিকে। কিন্তু প্রথমবার টোকিওতে অংশ নিয়ে বড় কিছু করতে পারলেন না। প্রথম রাউন্ডে ব্রিটেনের হলকে হারালেও পরবর্তীতে কানাডার ক্রিসপিন ডুয়েনাসের কাছে হেরে দেশসেরা আর্চারকে থামতে হয়েছে এখানেই। তাও আবার মাত্র এক পয়েন্টের জন্য!
অথচ যোগ্যতার নিরিখে রোমানকে নিয়ে অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল বেশি। ব্যর্থ হওয়াতে এখন প্রশ্ন উঠেছে, এখানেই কী থেমে যাবে রোমানের পথচলা? নাকি আগামী অলিম্পিকের জন্য যথার্থ পরিচর্যা পাবেন খুলনা থেকে উঠে আসা এই আর্চার। এমন প্রশ্ন উঠার কারণ অতীত ইতিহাস! সাধারণত আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে কোনও ক্রীড়াবিদকে দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যা করা হয় না। যে কারণে কোনও গেমসের আগে অল্প দিনের অনুশীলন নিয়েই মাঠে নেমে পড়তে দেখা যায়। আর ফলও হয় সেরকম।
সেই জায়গায় রোমান ভীষণ ভাগ্যবান। তীরের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক দিন ধরেই নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে ছিলেন। যার ফলও পেয়েছে দেশ। বিশ্বকাপ ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ সহ অনেক প্রতিযোগিতায় ভালো করেছেন। অলিম্পিকে ব্যর্থ হলেও এখানে কিছু বিবেচ্য বিষয় থাকেই। সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা আর্চাররা অংশ নিয়ে থাকেন। সেখানে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া মোটেও অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। প্রথম রাউন্ডের সাফল্যকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ঠিকমতো পরিচর্যা পেলে হয়তো সামনে আরও ইতিবাচক ফল রোমান উপহার দিতে পারবেন।
কিন্তু সমস্যা হলো এখানে দীর্ঘমেয়াদে নিবিড় পরিচর্যা হয়ে থাকে খুব কম। ফেডারেশনগুলোর প্রচেষ্টার অভাবে অনেক প্রতিভা অকালে ঝরে পড়ে। অথচ পাশের দেশ ভারত কিংবা অন্যরা কিন্তু দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। কোন ক্রীড়াবিদ শূন্য হাতে ফিরলেও তাকে সঠিক পরিচর্যা মাধ্যমে আগামী দিনের জন্য তৈরি করা হয়। যার ফলও তারা হাতে নাতে পাচ্ছে।
এখন রোমানের যা বয়স, তাতে করে আগামী অলিম্পিকের জন্য এখন থেকেই কাজ শুরু হলে হয়তো আরও ভালো কিছু হতে পারে। সেজন্য যেমন ফেডারেশনের চেষ্টা থাকতে হবে। তেমনি পৃষ্ঠপোষকসহ সরকারি মহল থেকেও সহায়তা প্রয়োজন। তাহলে যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিকে অংশ নিয়ে থাকে, সেটি হয়তো একদিন বাস্তবে রূপ নেবে!