সৌদি আরবে ব্যর্থতার পর সিদ্দিকুর রহমান

৪৩ কোটি টাকার টুর্নামেন্টে একটা টাকাও পাইনি, উল্টো খরচ হয়েছে

সৌদি আরবের জেদ্দায় গত ৩ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পিআইএফ গলফে অংশ নিয়েছিলেন দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তবে ৪৩ কোটি টাকার এশিয়ান ট্যুরের এই প্রতিযোগিতায় মোটেও ভালো করতে পারেননি ৩৭ বছর বয়সী গলফার। বিশ্বের শীর্ষ গলফারদের নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে কাট মিস করে বিদায় নেন সিদ্দিকুর। তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আজ (বুধবার) দেশে ফিরেছেন তিনি।

জেদ্দায় ভালো করতে না পারার পেছনে বেশ কয়েকটি যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন সিদ্দিকুর। যেমন, প্রতিকূল পরিবেশে খেলার পাশাপাশি নিজের ক্যাডিও সেখানে পাননি এই তারকা! দেশে ফিরে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘ওখানে গিয়ে আমার ক্যাডি করোনা পজিটিভ হয়ে যায়। আমাকে অনেক কষ্টে খেলতে হয়েছে। এছাড়া বাতাসের কারণে খেলাতে আপস অ্যান্ড ডাউন হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, কিছু সহজ সুযোগ মিস করেছি। তা না হলে ফল আরও ভালো হতে পারতো।’

তবে ফল ভালো না হলেও জেদ্দায় অন্যরকম অভিজ্ঞতা হওয়ার কথাও শুনিয়েছেন এই গলফার, ‘ওখানে বড় বড় গলফার খেলেছে। তাদের সান্নিধ্যে এসে অনেক কিছু শেখা গেছে।’

জেদ্দার গলফে ৪৩ কোটি টাকার প্রাইজমানি ছিল। এটাও এক ধরনের চাপ ছিল বলে মনে করেন সিদ্দিকুর, ‘প্রাইজমানিও এক ধরনের চাপ তৈরি করেছিল বলতে পারেন। তবে সবকিছু মিলিয়ে আমার আসলে খারাপ হয়েছে।’

২০১০ ও ২০১৩ সালের পর সিদ্দিকুর আর কখনোই এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জিততে পারেননি। এতদিন যে আন্তর্জাতিক গলফে টিকে আছেন, তাতেই সন্তুষ্ট বাংলাদেশি গলফার, ‘হ্যাঁ অনেক দিন ধরে এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জিততে পারিনি। তাই বলে আমি তো শেষ হয়ে যাইনি। এখন শিরোপা না জিততে পারলে সবাই মনে করে যে আমি শেষ হয়ে গেছি। আসলে তা তো নয়। এই যে এতদিন ধরে আন্তর্জাতিক সার্কিটে টিকে আছি, খেলছি; চ্যাম্পিয়ন না হলেও বিভিন্ন টুর্নামেন্টে শীর্ষ ৫, ১০ কিংবা ১৫-এর মধ্যে থাকতে পারছি, এটাও কম অর্জন নয়। এখন পর্যন্ত আমার পর তো দেশ থেকে কেউ উঠে আসেনি।’

জেদ্দাতে ৪৩ কোটি টাকার প্রাইজমানি হলেও সিদ্দিকুরের অ্যাকাউন্টে কোনও অর্থ যোগ হয়নি। বরং খরচ হয়েছে। সেই কথা জানিয়ে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তিনি, ‘টুর্নামেন্টে ভালো না করতে পারলে তো কোনও প্রাইজমানির অংশ পাওয়া যাবে না। এই যে আমি জেদ্দাতে ৫-৬ হাজার ডলার খরচ করে খেলেছি, এটা তো আমার বিনিয়োগ ছিল। আসলে আমি এই পর্যন্ত টিকে আছি, সেটা অনেকের চোখে পড়ে না। আমি তো শেষ হয়ে যায়নি। এখন আমার পরে অন্যরা উঠে এলে ভালো লাগতো। তা তো হচ্ছে না। তাই বলবো, আন্তর্জাতিক গলফে টিকে থাকাটাও বড় কিছু।’

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডে এশিয়ান ট্যুরের দুটি প্রতিযোগিতা আছে। সেখানে পরবর্তী লক্ষ্য সিদ্দিকুরের। সাফল্যের খরা কাটিয়ে হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার আরেকটি মিশনের অপেক্ষায় দেশসেরা গলফার!