২০১৯ সালে সবশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিলেন শাপলা আক্তার। ত্রিমুকুট জিতে চমকে দেন তিনি। কিন্তু মাঝে মাতৃত্বকালীন বিরতিতে থাকায় ব্যাডমিন্টন কোর্ট থেকে দূরে ছিলেন। এবার শুরু হওয়া ৩৭তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে শাপলা আবারও চিরচেনা পরিবেশে ফিরেছেন। শুরুটা হয়েছে দারুণ। সোমবার প্রথম রাউন্ডে কুমিল্লার শামসি চাকমাকে হারিয়েছেন ২১-৩ ও ২১-৮ সেটে।
জাতীয় ব্যাডমিন্টন না হলেও র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট, বাংলাদেশ গেমস ও বঙ্গবন্ধু ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের আয়োজন করে ফেডারেশন। কিন্তু গত তিন বছরে আর কোর্টেই নামা হয়নি শাপলার।
শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেন ফ্লোরের কোর্টে ফিরে শাপলা নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘আগের মতো ফিটনেস নেই। সেভাবে অনুশীলন করতে পারিনি। শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। ১৫ দিনের মতো অনুশীলন হয়েছে। তবে ফাইনালে ওঠার চেষ্টা করবো।’
কোর্টে খেললেও শাপলার মন পড়ে আছে নারায়ণগঞ্জের বাসায়। এক বছর বয়সী মেয়ে আমিরা বিনতে ওয়াহিদকে ঘিরে জগত তার, ‘মেয়েকে আমি ওর ফুফুর কাছে রেখে এসেছি। মেয়েকে রেখে খেলতে এলে মনোযোগ দেওয়া কঠিন। বাড়িতে পড়ে থাকে মন। যে যতই বলুক টেনশন নেই, কিন্তু আমার মন ওইদিকে থাকেই। বাবু এখন কী করছে, খেয়েছে কিনা, ঘুমিয়েছে কিনা, কী করে- এইসব ভাবি।’
তবে সংসার সামলে খেলায় মনোযোগ দেওয়ার ইচ্ছা শাপলার। যদিও তা যে কঠিন, মানছেন। শুরুতে জড়তা থাকলেও প্রথম ম্যাচ খেলার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে শুরু করেছেন শাপলা, ‘আগে খেলা নিয়ে কোনও টেনশন ছিল না। এখন একটু বেশি প্রেসার। খেলার মাঠে নামার পর মনে হচ্ছে একটু হলেও কনফিডেন্স লেভেল বেড়েছে। আল্লাহ ভরসা। ফাইনালে উঠবো আশা করি।’