১৯৭৩ সালে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে অ্যাথলেটিকসে প্রান্তিক থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিযোগিতা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর আবারও তা আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে শেখ কামাল আন্তস্কুল ও মাদ্রাস অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা। যার পৃষ্ঠপোষকতায় থাকছে ওয়ালটন।
ভবিষ্যতের অ্যাথলেট তুলে আনার এই প্রতিযোগিতা হবে চার ধাপে। শুরুতে আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে মাঠে গড়াবে এই টুর্নামেন্ট। চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর জেলা পর্যায়ে ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ও বিভাগীয় পর্যায়ে চলবে ৯ থেকে ১৩ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত। পরবর্তীতে বিভাগীয় বিজয়ী অ্যাথলেটদের নিয়ে হবে চূড়ান্ত পর্ব।
এই প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী ৫০০টি উপজেলা, ৬৪টি জেলা ও ৮ বিভাগের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থেকে প্রায় ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি (ছাত্র/ছাত্রী) ও ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণি।
‘ক’ গ্রুপে ইভেন্ট চারটি-১০০ ও ২০০ মিটার দৌড় এবং হাই জাম্প ও লং জাম্প ইভেন্ট।
‘খ’ গ্রুপে আবার ইভেন্ট বেশি। ১০০, ২০০, ৪০০, ৮০০, ১৫০০ মিটার দৌড়, হাই জাম্প, লং জাম্প, ট্রিপল জাম্প, জ্যাভলিন থ্রো, শটপুট, ডিসকাস এবং ৪*১০০ মিটার রিলে।
অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন সভাপতি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন। দায়িত্ব নিয়েই মাত্র এক মাস ১৫দিনের মাথায় অ্যাথলেটিকসে এমন বৃহৎ প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে যাচ্ছেন। আজ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন সংবাদ সম্মেলন করে এর বিস্তারিত তুলে ধরেছে।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের তৃতীয় তলায় সম্মেলন কক্ষে ফেডারেশনের সভাপতি বলেছেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও নান্দনিক বিকাশসহ প্রতিযোগী মনোভাব গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি ক্রীড়া আন্দোলন সৃষ্টির লক্ষ্যে স্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য এমন আয়োজন হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে এক অনবদ্য প্রাণচাঞ্চল্য ও প্রণোদনা সৃষ্টি হবে বলে আমরা মনে করছি।’
এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতের অ্যাথলেট বেরিয়ে আসবে বলে এই কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেছেন, ‘এখান থেকে ভবিষ্যতের অ্যাথলেট যেন বেরিয়ে আসে সেই চেষ্টা থাকবে। প্রতিভাদের বাছাই করে দেশি-বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণের চিন্তা-ভাবনা আছে। যেন আমরা এসএ গেমসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করতে পারি।’
সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া সচিব ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ও ওয়ালটনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হুমায়ুন কবিরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।