মৃত্যুর আগে কী বলেছিলেন পদকজয়ী মাশরাফি?

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের সাইতাড়া গ্রাম থেকে উঠে এসে যুব গেমসে নাম লিখিয়েছেন মাশরাফি হোসেন মারুফ। ঢাকায় চূড়ান্ত পর্ব খেলার আগে পদক জেতার পণ করেছিলেন। সেটি করেছেনও। জিতে বলেছিলেন, ‘সাইক্লিং নিয়ে স্বপ্ন হলো আমি দেশের বাইরে খেলবো। বাসায় বলে এসেছি কিছু একটা করবো, না হলে জীবন থেকে খেলা শব্দটা উঠিয়ে নেবো। সাইকেলের চাকা নষ্ট না হলে আরও ভালো পারফরম্যান্স হতো।’ কিন্তু কে ভেবেছিল পদকজয়ী এই সাইক্লিস্টের জীবনটা ক্ষণস্থায়ী! সোমবার পদক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আজ সকালে ট্রেন থেকে পড়ে অকাল মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে তাকে।

প্রথমবার ঢাকায় খেলতে এসেই মাশরাফি এককে এলিমিনেশন রেসে রুপা ও ২০০০ মিটার স্ক্যাচ রেসে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। ২০০০ মিটার টিম টাইম ট্রায়ালে দলগত ইভেন্টে রংপুর বিভাগকে রুপা জেতাতে ভূমিকা রেখেছেন।

এমন সম্ভাবনাময় একজনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।  মাশরাফির মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান বলেছেন, ‘ছেলেটা চিরিরবন্দরে রেলস্টেশনে মারা গেছে, সেটা মূল রেলস্টেশন না। ওখানে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস থামে না। কিন্তু ট্রেন গতি কমালে অনেক সময় যাত্রীরা নেমে পড়ে। মাশরাফির স্কুলটাও এই স্টেশনের পাশেই। ট্রেনের যখন গতি কম ছিল, তখন সে ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে সতীর্থ বন্ধু সাইক্লিস্টদের নিজের স্কুল দেখানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত হাত ফসকে পড়ে যায়। রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সেখানেই মারা যায়।’ 

মাশরাফির অকাল মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান। তার চাচা আলাউদ্দিন আলী জানিয়েছেন, ‘ও খুব প্রতিভাবান খেলোয়াড় ছিল। অ্যাথলেটিকসও খেলতো। দিনাজপুর টেকিনিক্যাল কলেজে পড়তো। ট্রেন দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও ওকে বাঁচানো যায়নি। মাশরাফির এমন অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।’

সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাহের উল আলম বলেছেন, ‘অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে ছেলেটা উঠে এসেছে। খুবই প্রতিভাবান সাইক্লিস্ট ছিল। আমরা একজন সেরা সাইক্লিস্টকে হারালাম। ওর পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার চেষ্টা করছি।’

অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন মাশরাফির অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।