এসএ গেমসে আড়াই কোটি টাকায় একটি স্বর্ণ

১২তম সাউথ এশিয়ান বা এসএ গেমসের ২২টি ডিসিপ্লিনের জন্য ১৩ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতের শিলং ও গৌহাটি গিয়েছিলেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। গেম শেষে চারটি স্বর্ণ, ১৫টি রৌপ্য ও ৫৬টি ব্রোঞ্জ পদক জয়ে আটটি দেশের মধ্যে পঞ্চম হয়েছে বাংলাদেশ। 

এসএ গেমস ২৩স্বর্ণ পদকের মাধ্যমেই গেমসে দেশের অবস্থান নির্ধারণ হয় তাই এর মাপকাঠিতে বলা যায় বাংলাদেশের প্রতিটি স্বর্ণ পদকের দাম পড়েছে আড়াই কোটি টাকা। কারণ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবেই জানিয়েছিল এবারের এসএ গেমসের জন্য তারা মোট দশ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। 

বাংলাদেশের চারটি স্বর্ণ পদকের দুটি প্রত্যাশিত আর দুটি সম্পূর্ণভাবেই অপ্রত্যাশিত। সাঁতারের স্বর্ণকন্যা মাহফুজা খাতুন শিলা ২০০৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাঁতার কাটছেন। ২০০৬ সালেই তিনি তার প্রিয় দুটি ইভেন্ট ৫০ও ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে এসএ গেমসের ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন, মাঝে অংশ নিয়েছেন বিশ্ব ও অলিম্পিক মানের সাঁতার প্রতিযোগিতায়। তার অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত স্বর্ণে রুপ নিয়েছে। 

কিন্ত মহিলা ভারোত্তোলক মাবিয়া আকতার সীমান্ত ও শ্যুটার শকিল আহমেদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে স্বর্ণ জয়ের কথা কেউই আশা করেননি। কারণ দুটি ইভেন্টেই তাদের চেয়ে অভিজ্ঞ ও খ্যাতিমান খেলোয়াড় ছিলেন দেশে। মাবিয়া ও শকিল আহমেদ যদি দেশকে স্বর্ণদুটি উপহার না দিতেন তবে বিদেশের মাটিতে সর্বনিম্ন স্বর্ণ পদক জয়ের রেকর্ড গড়তো বাংলাদেশ। ১৯৮৪ ও ১৯৯৯ সালে দুইবারই কাঠমান্ডুতে দুটি করে স্বর্ণ জয় করেছিল বাংলাদেশ। 

২০১০ সালে দেশের মাটিতে ১৮টি স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। কারাতে, গলফ ও ক্রিকেট এবারের আসরে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ তিনটি ডিসিপ্লিনে বাংলদেশের অর্জন ছিল সাতটি স্বর্ণ পদক তাই বলা যায় ১১টি স্বর্ণপদক অক্ষুণ্ন রাখার মিশনে ভারত গিয়েছিল বাংলাদেশ। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য ১১টি স্বর্ণ পদকের একটিও অক্ষুণ্ন রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ফুটবল, পুরুষদের ভারোত্তোলন, তায়েকোন্দো ও উশুতে দুটি করে, শ্যুটিংয়ে তিনটি ও বক্সিংয়ের স্বর্ণ পদক ধরে রাখতে ব্যর্থ বাংলাদেশ।

এবারের আসরে জয়জয়কার ছিল বাংলাদেশের মহিলাদের। চারটি স্বর্ণ পদকের তিনটি জিতেছেন মহিলারা। প্রথমবার অংশ নিয়ে রৌপ্য জিতেছে মহিলা হ্যান্ডবল ও খো খো দল।

দেশের জাতীয় খেলা কাবাডির করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে এবারের আসরে। পুরুষ দল শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের কাছে হেরে পুরোপুরি ব্যর্থ। মহিলারাও গ্রুপ পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিল তবে পরবর্তীতে তা কাটিয়ে উঠে তারা শেষ পর্যন্ত রৌপ্য পদক জিতে নেয়।

৫২১ সদস্যের বিশাল বহর নিয়ে এসএ গেমসে মিশন সম্পন্ন করলো বাংলাদেশ। ভারত ও শ্রীলঙ্কার পরেই ছিল ব্যক্তি বিচারে বাংলদেশের অবস্থান। কিন্ত পদক তালিকায় পঞ্চম, মানের উন্নয়নের চেয়ে অবনমনই বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। আফগানিস্তান অনেক কম ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েও সাতটি স্বর্ণ জিতে টপকে গেছে বাংলাদশেকে। যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হবে চিত্র, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব বাদল রায় বিষয়টি স্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অগ্রগামীতার মাত্রা আশাব্যঞ্ছক নয়। সার্বিক দিক বিচারে সকল ডিসিপ্লিনে আধুনিক ধ্যান-ধারণা ও অনুশীলন প্রক্রিয়া প্রচলন না করলে সামনে আরও ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে। 

১২ টি এসএ গেমসে বাংলাদেশের মোট পদক:

 

সন

ভেন্যুস্বর্ণরৌপ্যব্রোঞ্জমোটস্থান
১৯৮৪কাঠমান্ডু ১৩২১৫ম
১৯৮৫ঢাকা১৭৩৮৬৪৩য়
১৯৮৭কলকাতা২০৩১৫৪৪র্থ 
১৯৮৯ইসলামাবাদ১২২৪৩৭৪র্থ
১৯৯১কলম্বো২৮৪০৪র্থ
১৯৯৩ঢাকা১১১৯৩২৬২৪র্থ
১৯৯৫মাদ্রাজ১৭৩৪৫৮৪র্থ
১৯৯৯কাঠমান্ডু১০৩৫৪৭৫ম
২০০৪ইসলামাবাদ১৩২৪৪০৫ম
২০০৬কলম্বো১৫৩২৫০৬ষ্ঠ
২০১০ঢাকা১৮২৩৫৬৯৭৩য়
২০১৬শিলং-গোহাটি১৫৫৬৭৫৫ম


/এমআর/