ঢাকা বোর্ডের এক সিদ্ধান্তে জান্নাতুল ফেরদৌসের ভাগ্য খুলে যায়। এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী জান্নাতুলের টেস্ট পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ৩০ এপ্রিল থেকে। তখন পরীক্ষা হলে আর এশিয়ান জোনাল দাবায় খেলার সুযোগ ছিল না। তবে বোর্ডের নির্দেশনায় এক মাস পরীক্ষা পেছানোয় যারপরনাই খুশি জান্নাতুল। ঢাকার টুর্নামেন্টে অংশ নিলেন। রানী হামিদ-নজরানা খান ইভাদের ছাড়িয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন।
শুধু কী তাই! দেশের সবচেয়ে কম বয়সী দাবাড়ু হয়ে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টারের খেতাব পেয়েছেন। খেলবেন আজারবাইজানের বিশ্বকাপ দাবাতেও। ১৭ বছর বয়সী দাবাড়ুর অবয়বে এখন বড় স্বপ্ন। ওপেন বিভাগে ছেলেদের সঙ্গে লড়াই করে দেশে মেয়েদের মধ্যে প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাইছেন।
জান্নাতুলের দাবায় হাতেখড়ি বাবার মাধ্যমে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক আজিজুল হক শৌখিন দাবাড়ু। অবসরে দাবা খেলতে পছন্দ করেন। বাবার সংস্পর্শে এসে ক্লাস টু থেকে মেয়ের পুরোপুরি দাবায় মনোযোগ। এরপর ধীরে ধীরে পেশাদার দাবাড়ু হয়ে ওঠা। জাতীয় সাব জুনিয়রের পর গত বছর তো জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। দেশের বাইরে অলিম্পিয়াড ছাড়াও খেলেছেন অন্য দেশেও।
সেটা হতে পেরে বেশ খুশিও, ‘২০২২ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। আমার আশা ছিল জোনাল দাবায় চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো। হলে বিশ্বকাপে খেলাসহ অনেক সুযোগ সুবিধা পাবো। চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমিসহ পুরো পরিবার খুশি। তবে খেলতে পারবো কি না সংশয়ে ছিলাম। টেস্ট পরীক্ষা ছিল ৩০ এপ্রিল। খেলা ২ মে। তবে ভাগ্য ভালো বোর্ড থেকে নির্দেশনা আসে পরীক্ষা এক মাস পেছানো হয়। খেলতে পারলাম। আল্লাহ রহমতে চ্যাম্পিয়ন হলাম। এই অনুভূতি অন্যরকম।’
৯ খেলায় সাড়ে ৭ পয়েন্ট পেয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টারের খেতাব পেয়েছেন। ১৮৫২ রেটিং হয়েছে। তবে ২০০০ হলে তখন সেই খেতাব ব্যবহার করতে পারবেন। জান্নাতুল মনে করছেন খেলার মধ্যে থাকলে অচিরেই তা অর্জন হবে।
বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের সুপ্ত ইচ্ছার কথাও বললেন, ‘বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে যাবো। প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে খেলা। সেটা পূরণ হতে যাচ্ছে। আমিসহ আমার পুরো পরিবার খুশি। সেখানে নক আউট পদ্ধতিতে খেলা হবে। আমি চাই পরের ধাপে যেতে।’
এক সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনের আদর্শ মেনে বড় হওয়া জান্নাতুল চাইছেন দেশের নাম একসময় আরও উজ্জ্বল করতে। এরজন্য বড় লক্ষ্য নিয়ে খেলে যেতে চাইছেন, ‘ওপেন বিভাগে ছেলেদের সঙ্গে লড়াই করে গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাই। মেয়েদের মধ্যেও হতে চাই। যা আমাদের এখানে কেউ হতে পারেনি। আশা করছি পারবো। আসলে স্বপ্ন বড় করে দেখতে হয়। আমি সেটাই দেখতে চাই।'
তবে এর জন্য নিরলস অনুশীলন ও খেলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। চান সবার সহযোগিতা , ‘ভালো কোচের অধীনে অনুশীলনে থাকতে পারলে আরও ভালো হতো। নিয়মিত দেশে ও দেশের বাইরে খেলতে পারলে পারফরম্যান্স ভালো থাকে। তখন ক্যারিয়ার দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া সহজ হয়।’