‘চেনা’ মালদ্বীপ ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

বঙ্গবন্ধু আইএইচএফ চ্যালেঞ্জ ট্রফি উইমেন্স টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে বাংলাদেশ দল আজ শনিবার মুখোমুখি হয়েছিল মালদ্বীপের। সেখানেও জিতেছে স্বাগতিকরা। পল্টন শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ৩৮-২১ গোলে হারিয়েছে মালদ্বীপকে।    

টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের দুটি বয়সভিত্তিক ম্যাচ। এর আগে দুপুরে বাংলাদেশ ইয়ুথ (অনূর্ধ্ব-১৭) দল ৪৮-১০ গোলে হারিয়েছিল মালদ্বীপের ইয়ুথ দলকে। গ্যালারিতে দর্শকের উন্মাদনা ছিল সেই দুপুর থেকেই, জুনিয়র দলের ম্যাচ শুরু হলে যেন সেই উন্মাদনা পায় বাড়তি মাত্রা। যখনই বল নিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা বক্সে ঢুকেছেন, কোনও একজন খেলোয়াড় ডাইভ শট দিয়েছেন, দর্শকেরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন সেই পারফরম্যান্সের। 

ম্যাচের শুরুর দিকে অবশ্য বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। ম্যাচের প্রথম গোলটি করে মালদ্বীপ। এক সময়ে তারা এগিয়ে যায় ৪-৩ ব্যবধানে। একটা পর্যায়ে অবশ্য বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১২, মালদ্বীপের ৮। কিন্তু সময় যতই গড়িয়েছে, বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিয়ে নেয়। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ১৯-৯ গোলে। 

বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ ১২ গোল করেছেন সানজিদা আক্তার। ১১ গোল করেছেন সানজিদা মিনজ। 

প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করতে পেরে খুশি বাংলাদেশের কোচ আমজাদ, ‘আজ প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলেছে মেয়েরা। দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম। আর যেহেতু প্রশিক্ষণের সময় কম পেয়েছি এজন্য এদের স্কিলড করতে গিয়ে ফিজিক্যাল ফিটনেসের দিকে নজর দিতে পারিনি। টেকনিক্যাল দিকে কাজ করেছি বেশি। প্রতিপক্ষ নেপাল ও মালদ্বীপ নিয়ে কাজ করেছি। কারণ আমি জানি ভারত হ্যান্ডবলে অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। মালদ্বীপকে হারিয়েছি। এরপর নেপালের সঙ্গে জিতলে ইনশাআল্লাহ ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হতে পারবো।’

শুরুর দিকে একটু খেই হারিয়ে ফেলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। সেই ছন্দপতনের ব্যাখ্যা দিলেন কোচ এভাবেই, ‘কখনও মনে হয়নি ওরা এগিয়ে যাবে। আমাদের কিছু টেকনিক্যাল রুলস ফলসের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ি। ওই সময় কাছাকাছি হয়ে যায় স্কোর। তবে গোল খাওয়ার পর শোধের চেষ্টা করেছি।’ 

মালদ্বীপের বেশিরভাগ খেলোয়াড় ও কোচ আমজাদের নিজের হাতে তৈরি। সেই দলকে এমন শক্ত অবস্থানে দেখতে পেয়ে খুশি তিনি, ‘ওরা যে শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে এসেছে সেই আত্মতৃপ্তি পাচ্ছি। কোচ ও রেফারি আমার হাতে তৈরি। আইল্যান্ড থেকে যে খেলোয়াড় এসেছে ওরাও আমার হাতের। সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগছে আমার।’