বাংলাদেশ থেকে ২৪০ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার দল চীনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর দেশটির হাংঝু শহরে হবে ১৯তম এশিয়ান গেমস। বাংলাদেশ অংশ নেবে ১৭টি ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে। ক্রিকেট, ফুটবল, আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, কাবাডি, হকি, শুটিং, সাঁতার, ভারোত্তোলন, জিমন্যাস্টিকস, কারাতে, দাবা, ফেন্সিং, ব্রিজ, গলফ ও তায়কোয়ান্দোতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রতিনিধিত্ব করবে। সব মিলিয়ে ৪৫টি এশিয়ান দেশের প্রায় ১২ হাজার অ্যাথলেট ৬১ ডিসিপ্লিন ও ৪৮১ ইভেন্টে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ থেকে ১০৪ জন পুরুষ ও ৭৬ জন নারী অ্যাথলেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। কোচ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ ও পাঁচ জন নারী।
২০১০ সালে শেষবার চীনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের কিছু ভালো স্মৃতি ছিল। পুরুষ ক্রিকেট দল স্বর্ণ জিতেছিল, নারী ক্রিকেট দল পায় রৌপ্য ও মেয়েদের কাবাডি দল অর্জন করে ব্রোঞ্জ।
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ইনচিয়ন এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেট দল রৌপ্য পায় এবং পুরুষ ক্রিকেট দল ও নারী কাবাডি দল ব্রোঞ্জ পায়। কিন্তু তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার গত আসর শেষ করে কোনও পদক ছাড়াই।
তবে এবার সেই ব্যর্থতা ঘুচানোর আশা। রবিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ শাহেদ রেজা সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের টিম ম্যানেজমেন্টের অধীনে দলগুলো এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি নিয়েছে। ফেডারেশনগুলোর তদারকিও ছিল। আর্চারি, শুটিং, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস ও কাবাডির অনুশীলন হয়েছে বিদেশি কোচের অধীনে। আর্চার ও শুটাররা সেরা পারফরম্যান্সে আশাবাদী।’
বিওএ সেক্রেটারি জেনারেল আরও যোগ করেন, ‘ক্রিকেট, শুটিং ও আর্চারি থেকে এই এশিয়ান গেমসে ভালো ফলের প্রত্যাশা। পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমেরিকান নারী বক্সার জিনাত ফেরদৌস ও যুক্তরাজ্যের স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমানও ভালো কিছু করতে পারে।’
গ্র্যান্ড মাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ ও বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চারদিন আগে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ফুটবল দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের মিশন। ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হবে ক্রিকেট ইভেন্ট। হাংঝু অ্যাথলেট ভিলেজ ও পাঁচটি সাব ভিলেজে থাকবেন অ্যাথলেট ও কর্মকর্তারা। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পুরুষ ফুটবল দল চীনের উদ্দেশে উড়াল দেবে। দুই দিন পর মেয়েদের ক্রিকেট দল রওনা হবে।