ব্যস্ত যাপিত জীবনে সবাই দৌড়াচ্ছেন। কেউ সাংসারিক কাজে কেউবা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে দৌড়ের ওপর থাকেন। অদৃশ্য ওসব দৌড়ের নেপথ্যে অনেক তাত্ত্বিক বিষয় জড়িত থাকলেও, ঘাম ঝরানো ম্যারাথন দৌড় সম্পর্কে যারা টুকটাক খবর রাখেন, তারা জানেন ইউটিএমবি কী।
ইউটিএমবি বা আলট্রা ট্রেইল ডু মন্ট ব্লাঙ্ক-এ সুপার বোলে বিভিন্ন ধাপে ন্যূনতম দৌড়াতে হয় ২০ কিলোমিটার, ৫০ কিলোমিটার, ১০০ কিলোমিটার থেকে ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই রেস মূলত হয়ে থাকে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতমালার চারপাশে। আর এই রেসেই অংশ নেওয়া শুরু করেছেন বাংলাদেশের তরুণ ইমামুর রহমান।
ভিয়েতনাম আর পর্তুগালে সফলভাবে আলট্রা ট্রেইলার সম্পন্ন করার পর এবার তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন থাইল্যান্ড থেকে।
কথা প্রসঙ্গে ইমামুর রহমান জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইতে অনুষ্ঠিত হবে ইউটিএমবি সার্টিফায়েড এশিয়া মেজর ইভেন্ট। নতুন রেসের ভেন্যু হলো রয়্যালপার্ক রাজাপ্রুয়েক। সেখানেও তিনি অংশ নেবেন। এই রেসে অংশ নিতে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
থাইল্যান্ডের এই ট্রেইলে ইমামকে অতিক্রম করতে হবে ওয়াট ফ্রা দ্যাট দোইখাম মন্দির, ভুবিং প্যালেস, খুন চ্যাং খিয়ান, হুয়ে তুয়েং থাও জলাধার, মায়ে সা এলিফ্যান্টক্যাম্প, দোই পুই সামিট, দোই ফা ক্লং, হমংগ্রাম, ওয়াটফ্রা দ্যাট দোই সুথেপমন্দির। এই ট্রেইলে রাস্তার মোটদৈর্ঘ্য হলো ১০০ কিলোমিটার, যার পুরোটাই হবে জঙ্গলের ভেতর!
ইমাম বলেন, থাইল্যান্ডের ইউটিএমবিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণে আমি সম্মতি দিয়েছি। বলতে পারেন একধরনের সাহস নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। আশা করছি ভিয়েতনামের মতো এই ট্রেইলটিও সফলভাবে শেষ করতে পারবো। এখন সবকিছু উপরওয়ালার ওপর নির্ভর করছে।
শহুরে জীবনে শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখতে এখন অনেকেই ম্যারাথনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু ইউটিএমবি সার্টিফায়েড ম্যারাথন করেন হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র। তাদের মধ্যে ইমামুর রহমান অন্যতম। ২০১৩ সাল থেকে ম্যারাথনার হিসেবে দৌড় শুরু করলেও, এই তরুণ ইউটিএমবির সঙ্গে জড়িয়েছেন কয়েক বছর হলো।
এ বছর তিনি ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত যে ইউটিএমবিতে অংশ নিয়ে সফল হয়েছিলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ওই রাস্তার দৈর্ঘ্য ছিল ৭০ কিলোমিটার। এটি ছিল ৩২০০ মিটার উচ্চতাসম্পন্ন পথে ট্রেইলরান। এ ছাড়া এ বছরের মার্চে পর্তুগালে ইডিপি লিসবন হাফম্যারাথনও সম্পন্ন করেছেন এই তরুণ। সেটি ছিল ‘হাফম্যারাথন’ এর সুপার হাফ সিরিজ।
ইমামুর জানান, ইউটিএমবি করার আগেও রেস করে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক পদক অর্জন করেছেন। তবে পদক তার লক্ষ্য নয়, এটি কেবলি তার প্যাশন।
তিনি বলেন, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় আমি। মাঝেমধ্যে তুষার, বৃষ্টি, ঝড়ে ও উঁচু পাহাড়ি পথ দিয়ে চলতে ইচ্ছে করে। তাই এই চ্যালেঞ্জটা আমি গ্রহণ করি। আমার লক্ষ্য ম্যারাথনের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রতিটি স্থান স্পর্শ করা। বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরা।
ঘরকুনো তরুণদের দৌড়ে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পেশায় ব্যবসায়ী এই দৌড়বিদ বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে চাইলে সময় ক্ষেপণ না করে ম্যারাথনে যুক্ত হন। একজন মানুষের সুস্থতার জন্য ন্যূনতম প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার দৌড়ানো উচিত।