হঠাৎ জাতীয় আর্চারি দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোমান সানা। এ নিয়ে চারদিকে হইচই। রোমানের অবসরের পেছনে দুঃখ-দুর্দশার কথা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ আহসান রাসেল। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এই প্রসঙ্গে ওই সময়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
আর্চারির মাধ্যমে বিশ্বে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে রোমান বড় মাপের কোনও পুরস্কার পাননি, যেমনটা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, শাকিল আহমেদ কিংবা মাহফুজা খাতুন শীলা পেয়েছেন। তাদের সবাইকে ঢাকায় ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে রোমান আফসোসও করেছেন। তবে জাহিদ আহসান বলেছেন, ‘রোমানের বিষয়টি আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। আমার কথা হলো যারা পুরস্কার পেয়েছে, তারা তো আগে আবেদন করে নিয়েছে। এছাড়া মৌখিকভাবে তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছে। কিন্তু রোমান তো কখনও আমাদের কাছে চায়নি কিছু। চাইলে অবশ্যই ওর জন্য করা যেতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক মানুষ। নিশ্চয় ওর জন্য কিছু করতো। এখন না চাইলে কীভাবে বুঝবো কার কী প্রয়োজন।'
গাজীপুরের টঙ্গীতে আর্চারি ক্যাম্প হয়ে থাকে। রাসেলের নির্বাচনী এলাকা ওখানে। সেই সূত্রে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত আছে। সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আফসোস করে বলেছেন, 'আমি ক্যাম্পে এতবার গিয়েছি, রোমান কখনও কিছু বলেনি। এমনকি আমার মোবাইলে যোগাযোগ করার সুযোগ ছিল। সেই সম্পর্কও আছে। তারপরও কেন তা না করে এখন মিডিয়াতে নানান রকম কথা বলছে। এটা দেখে খারাপ লাগছে। সবশেষ শুটার শারমিনকে প্রধানমন্ত্রী ফ্ল্যাট কেনার জন্য বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছেন। রোমান চাইলেই পেতো। ও তো দেশের সম্পদ।'
এর আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার অভিপ্রায় জানিয়ে সফল হয়েছিলেন। সেসময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে মিষ্টি খেয়ে ইচ্ছে পূরণ হয়েছিল রোমানের। তা আবারও মনে করিয়ে রাসেল বলেছেন, 'সেসময় ও যদি প্রধানমন্ত্রীকে বলতো ও কী চায়, তাহলে তো হয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক মানবিক। কাউকেই ফেরান না। ও তো সেখানেও কিছু চায়নি। আর করোনা ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণেও নিজেরা যেচে কিছু করা সম্ভব হয়নি।'
তবে রোমানের জন্য কিছুই করা হয়নি তা কিন্তু নয়। জাহিদ আহসান বলেছেন, ‘আমরা যখন শুনলাম ওর মা অসুস্থ। ডেকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন যদি বলে দেশ কিছু দেয়নি তা হবে দুঃখজনক। তারপরও বলবো রোমানের জন্য পথ খোলা। যে কোনও সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। প্রয়োজনে আমরা ওকে আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাবো।'