একটি ক্রীড়া সংস্থায় একই পদে কেউ দুই বারের বেশি থাকতে পারবেন না। আজ শুক্রবার বিকালে খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে শুরুতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন স্তরের সংশ্লিষ্ট ২৬ জন। দেড়ঘণ্টা জুড়ে উপদেষ্টা তাদের বক্তব্য শুনেছেন।
এরপর বক্তব্য দিতে গিয়ে শৃঙ্খলার ওপর জোর দেন আসিফ, ‘খেলাধুলা আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়, যা জাতীয় জীবনেও শিক্ষণীয়। এখানে আপনারা অনেক বর্তমান, সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ আছেন। আপনাদের মধ্যে শৃঙ্খলার যথেষ্ট অভাব। আগামীতে ফেডারেশনে আসলে আপনাদের শৃঙ্খলভাবে কাজ করতে পারাটা সন্দিহান।’
ফেডারেশনগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে ফেডারেশনগুলোর জন্য সাধারণ নির্দেশনা তৈরি হচ্ছে। যার কিছুটা ধারণা বক্তব্যে দিয়েছেন উপদেষ্টা, ‘কোনও ক্রীড়া সংস্থায় একই পদে দুই বারের বেশি নয়। খেলা বা ফেডারেশনের প্রয়োজনে ওই ব্যক্তি অন্য পদে কাজ করতে পারেন, কিন্তু একই পদে দুই বারের বেশি নয়।’
ক্রীড়া উপদেষ্টা সরাসরি উল্লেখ না করলেও সহজেই অনুমেয়, তিনি ফেডারেশন-ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদকে মূলত নির্দেশ করেছেন। ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, ‘অনেকেই ফেডারেশনের পদকে দায়িত্ব নয়, ক্ষমতার অংশ মনে করে। আমরা সেটা রোধে কাজ করছি।’
আগের সময়ের মতো আগামীতেও যেন রাজনীতিকরণ না হয়, সেদিকে যথেষ্ট মনোযোগ তার, ‘ক্রীড়াঙ্গনে বিরাজনীতিকরণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনে যেন প্রভাব না আসে।’
ফেডারেশনগুলোর বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে চান আসিফ, ‘অবশ্যই খেলাধুলার জন্য বাজেট প্রয়োজন। আমরা বাজেট বৃদ্ধি ও স্পন্সরের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। অনেক ফেডারেশনকে নিয়ে আমরা আর্থিক দুর্নীতি-অনিয়মের কথা শুনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা মন্ত্রণালয়ের কাছে ফেডারেশনগুলোর নিয়মিত অডিট রিপোর্ট দিতে হবে।’
এই সভায় অনেকের বক্তব্য না দিতে পারার আক্ষেপ রয়েছে। তাদের লিখিতভাবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অথবা ইমেইল যোগে মতামত প্রেরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেগুলো মূল্যায়ন হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম, ‘আপনাদের লিখিত বক্তব্য আমরা পর্যালোচনা করবো। সার্চ কমিটির কাছেও সেগুলো পাঠানো হবে।'