সেই ২০২২ সালে সবশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছিলেন দেশের তৃতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার রিফাত বিন সাত্তার। এরপর থেকে দাবার অঙ্গনে অনিয়মিত। চাকরি মূলত দাবা থেকে দূরে থাকার অন্যতম কারণ। অনেক দিন পর দাবায় আবারও নিয়মিত পদচারণা শুরু হয়েছে রিফাতের। তবে খেলতে নয়, শেখাতে! দাবা ফেডারেশন জুনিয়র দাবাড়ুদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। সেখানে দেশের অন্যতম দাবাড়ু রিফাত আছেন কোচের ভূমিকায়।
গত আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে সাকলায়েনদের সপ্তাহান্তে ক্লাস নিচ্ছেন। ফেডারেশনে অন্তত দুদিন প্রতিভাবানদের নিয়ে ৬৪ বোর্ডের খেলার নানান কৌশল হাতে কলমে দেখিয়ে দিচ্ছেন ৫১ বছর বয়সী দাবাড়ু। নতুনদের নিয়ে কাজ করতে পেরে রিফাতও উচ্ছ্বসিত। নিজের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আসলে চাকরির ব্যস্ততার কারণে আমি ২০২২-এর পর থেকে দাবায় কোনও প্রতিযোগিতামূলক খেলাতে নেই। এবার ফেডারেশন থেকে সাধারণ সম্পাদক সুমন (তৈয়বুর রহমান) অনুরোধ করলেন জুনিয়রদের শেখানোর জন্য। বন্ধুর অনুরোধ ফেলতে পারিনি। ছুটির দিনগুলোতে ক্লাস নিচ্ছি। যখন খেলা থাকে সেসময় নেওয়া হয় না।’
তবে শুধু কোচিং প্রোগ্রাম নয়, তাদের নিয়মিত খেলার মধ্যে রাখাটাও জরুরি মনে করছেন রিফাত, ‘দেখুন শুধু প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকলেই হবে না, খেলতেও হবে। তাহলে ওরা নিজেদের ভুল-ত্রুটি বুঝতে পারবে। নিজেদের আরও শানিত করার সুযোগ পাবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানে পড়ে একসময় ইউনিসেফ-সেভ দা চিলড্রেন সহ অন্য জায়গাতে চাকরি করেছেন রিফাত। যদিও সহপাঠী বন্ধু প্রয়াত জিয়া দাবাতেই মনোনিবেশ করেছিলেন। খেলার পাশাপাশি কোচিংই ছিল তার পেশা। রিফাত অবশ্য বন্ধুর পথে হাঁটেননি। নিজের প্রতিভা দাবাতে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে অন্য পেশাতে মনোনিবেশ করেছেন। নিজের দাবার ভবিষ্যৎ ও পেশা নিয়ে তার কথা, ‘চাকরির কারণে নিয়মিত খেলাটা কঠিন। এছাড়া আমি চেয়েছি নিজের প্রতিভা শুধু দাবায় নয়,অন্য পেশাতেও কাজে লাগাতে। যেন দেশের উন্নয়নে কাজে লাগে। তাই দাবায় নিয়মিত নই। তবে এবার নভেম্বরে গ্র্যান্ডমাস্টার্স টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। এটাতে অংশ নেবো। আসলে দাবাকে পেশা হিসেবে নেওয়া কঠিন, দাবা খেলে চাকরি করাটাও কঠিন। পাশের দেশে যারা দাবা খেলেন, তারা নানান সুবিধা পান। সরকারি বেসরকারি চাকরি হয়, জীবন নিয়ে তাদের টেনশন করতে হয় না। আমাদের এখানে তেমন কিছু পাওয়া বেশ কঠিন। তাই সবাই ইচ্ছে করলেই দাবাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে না। জিয়া পেরেছিলেন। দাবাই ছিল ওর ধ্যান-জ্ঞান। খেলা ও কোচিং ছিল তার পেশা। তবে আমি চাকরিতে ব্যস্ত থাকায় সব দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়নি।’
দীর্ঘদিন ধরে দেশে ষষ্ঠ গ্রান্ডমাস্টার বের হচ্ছে না। রিফাত মনে করেন, ‘এর জন্য পরিপূর্ণ পরিকল্পনা করে এগোতে হয়। ফাহাদ-নীড়রা চেষ্টা করছে। হয়তো সময় লাগবে, একসময় হয়ে যাবে। এর জন্য সবাইকে আরও পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।’