যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, মোট ৫০০ ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হবে।
রবিবার সচিবালয়ে ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া কার্ডের সুবিধার আওতায় আনতে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।
এই কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, ডিএমটিসিএল এবং বীমা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রীড়া কার্ডধারীদের জন্য দেশের সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনে ছাড়যুক্ত ভাড়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াকালীন দুর্ঘটনা, উন্নত চিকিৎসা ব্যয় ও সার্বিক জীবনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমা ও ঝুঁকিবীমা সুবিধার আওতায় আনার কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ক্রীড়া ভাতা ও নতুন ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া ভাতার জন্য বছরে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
ক্রীড়া কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে ও ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। মোট ৫০০ ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হবে। তবে ৩১ জনকে ভাতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ৪ মাস পর পর অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে এই তালিকা হালনাগাদ করা হবে। প্রতি চারমাস পরপর কিছু বাদ পড়বে বা নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হবে।’
আরও ৯৫ জনকে নতুন করে যুক্ত করার কথা জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘শিগগিরই ৯৫ জনকে নতুন করে সংযোজন করছি। পর্যাপ্ত ক্রীড়াবিদ পাওয়া যায়নি, তাই ৫০০ জনের কোটা পূরণ হয়নি। ভালো ক্রীড়াবিদ পেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
এশিয়ান গেমস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমস বা ফুটবলের সার্বিক ফল নিয়ে খুব বেশি হতাশ না। প্রাথমিকভাবে ফল হতাশাজনক হলেও, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই। এনএসসির মূল্যায়ন কমিটি করতে বলা হয়েছে, রিপোর্ট পেলে সার্বিক বিষয় তুলে ধরবো।’
উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, বিআইডাব্লিউটিএ-এর সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ডিএমটিসিএল-এর পরিচালক মো. আমিনুর রহমান, জীবন বীমা কর্পোরেশনের জিএম আবু নাইম মো. মারুফ খান, বাংলাদেশ নৌপরিবহন মালিক সমিতির মহাপরিচালক ছিদ্দুকুর রহমান পাটোয়ারীসহ পরিবহন খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।