যুদ্ধের ক্ষত শুধু ধ্বংসস্তূপে নয়, কখনও কখনও গভীরভাবে দাগ কাটে মানুষের মনেও। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার সেই মানসিক আঘাতের বিষয়টি এবার সামনে আনলেন টেনিস তারকা এলিনা সভিতোলিনা। দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর কারণে নিজের ভেতরে তৈরি হওয়া পরিবর্তনের কথা জানিয়ে ফরাসি সাবেক টেনিস খেলোয়াড় গায়েল মোনফিসের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা ৩২ বছর বয়সী সভিতোলিনা ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন পোস্টে জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে নিজের কাছে ফিরে আসা তার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের মধ্যে থেকে সেই পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি।
সভিতোলিনা লিখেছেন, ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিষয়, যা আমাকে ভাগ করে নিতে হচ্ছে।’
নিজের ভেতরের মানুষটিকে আবার খুঁজে পাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে নিজের কাছে ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করতে হবে।’
৪০ বছর বয়সী মোনফিসের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন সভিতোলিনা। তার ভাষায়, মোনফিস তার কথা শুনেছেন এবং তার প্রয়োজনকে সম্মান করেছেন। এ জন্য স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভিতোলিনা লিখেছেন, ‘এমন শক্তি ও মর্যাদার সঙ্গে তিনি আমার প্রয়োজনকে সম্মান করেছেন, যা আমি কখনও ভুলবো না।’
চারটি গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলা এই ইউক্রেনীয় তারকা আরও লিখেছেন, ‘কিছু লড়াই মানুষের ভেতরে চলে। অন্য কারও ভালোবাসা যত গভীরই হোক, সেই লড়াই আপনার হয়ে জিততে পারে না।’ ভালোবাসার মানুষকে বিচ্ছেদের কথা জানানোকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইউক্রেনের ওদেসায় বেড়ে উঠেছেন সভিতোলিনা। দেশটির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সবাই জানেন।’
কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী বন্দরনগরী ওদেসা রাশিয়ার হামলায় বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।
সভিতোলিনার ভাষায়, বাইরের মানুষ তার জীবনের সবটা দেখতে পাননি, ‘আপনারা যা দেখেননি, তা হলো নির্ঘুম রাত, সংশয় আর ধীরে ধীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলার অনুভূতি।’
২০২১ সালে বিয়ে করেছিলেন সভিতোলিনা ও মোনফিস। তাদের চার বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে, নাম স্কাই। মেয়ের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের বন্ধন নিয়ে সভিতোলিনা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘আমার মেয়ে সব সময় সবার আগে থাকবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের বিয়ে শেষ হচ্ছে, কিন্তু আমাদের পরিবার নয়।’