ঐতিহাসিক দিনে টাইগারদের ইতিহাস বদলানোর সুযোগ

সিরিজের আগে ফটোসেশনে দুই অধিনায়কমঙ্গলবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন এই দিনে। এই দিনেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্ট শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। ঐতিহাসিক এই ৭ মার্চকে স্মরণ করে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার এই সিরিজের নাম করা হয়েছে ‘জয় বাংলা কাপ’। স্বাধীনতার মাসে দেশের বাইরের সিরিজেও মিশে থাকছে বাংলা ও বাংলাদেশ।

এদিন বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে দশটায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন ও টেন ক্রিকেট।

ম্যাচের আগের দিন দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই উত্তাপ বিরাজ করছিল। সকালে অনুশীলন করা শ্রীলঙ্কানরা কঠোর অনুশীলন করে ম্যাচের আগের দিন শেষ করেছেন। চোখে মুখে লড়াইয়ের আভাস দেখা গেলেও লঙ্কান অধিনায়কের কণ্ঠে মুশফিকদের সমীহ।

অন্যদিকে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গত দুই দিন ধরে গলের সবুজ গালিচায় কঠোর অনুশীলনে মেতে উঠেছে মুশফিক-রিয়াদ-সাকিবরা। মঙ্গলবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। ঘরের মাঠে ভালো করা বাংলাদেশের এবার চ্যালেঞ্জ লঙ্কানদের গুড়িয়ে দিয়ে বিদেশের মাটিতে সাফল্যের ভিত রচনা করা। যা গত নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরে পারেনি বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট খেলেছে। যার মধ্যে ১২টি টেস্টেই হেরেছে। মাত্র দুটি ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে গলে দুর্দান্ত খেলে ড্র করে মুশফিক-আশরাফুলরা। এর পরের বছর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বার ড্র করে বাংলাদেশ। বাকি ১২ ম্যাচের বেশিরভাগই ইনিংস ব্যবধানে হার মানে টাইগাররা। সেই বৃত্ত ভেঙে ৭ মার্চ ঐতিহাসিক এই দিনে টাইগারদের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকছে।

মঙ্গলবার ম্যাচ শুরুর আগে পরিসংখ্যানে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে হেলাফেলা করার কোনও সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে পরাজিত করেছে। চলতি বছল নিউজিল্যান্ড ও ভারতে গিয়ে পঞ্চম দিন পর্যন্ত লড়াই করেছে।

মুশফিক এইসব বিষয়গুলোতে এগিয়ে রাখছেন। টেস্টে ভালো খেলতে হলে ধাপে ধাপে এগোতে হয়। মুশফিক মনে করছেন বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই দলের সমান সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের জন্য এটা সেরা সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

এদিকে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ মনে করেন টেস্ট সিরিজে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে গেলে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে বলে জানান তিনি।

মুশফিকের জন্য স্বস্তির খবর মুস্তাফিজের ফেরা। টানা ৫টি টেস্ট ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি তিনি। অবশেষে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে প্রথম টেস্ট দিয়ে একাদশে ফিরছেন তিনি। তার ফেরাতে মুশফিকের বোলিং অস্ত্রটা কিঞ্চিৎ ধারালো হলো। সেই সঙ্গে সাকিব ও মিরাজের স্পিন ঘূর্ণি বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনবে বলে মনে করেন মুশফিক, ‘মুস্তাফিজ ফেরায় এবং মিরাজ ও সাকিব স্পিন বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্যতা আনবে। আশা করি সবাই দারুণ প্রতিরোধ গড়তে পারবে।’

ঐতিহ্যগতভাবে গলের উইকেট স্পিন সহায়ক। যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচটিতে উইকেট ছিল সম্পূর্ণ ফ্লাট। সোমবার উইকেট দেখে দুই অধিনায়কের ধারণা একই। ২ থেকে ৩ দিন পর থেকে উইকেটে স্পিন ধরবে। তার আগে ব্যাটসম্যানদের জন্য দারুন সহায়তা করতে এই উইকেট।

মুশফিক অবশ্য একাদশ কেমন হবে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন না। মঙ্গলবার সকালে শেষ দফা উইকেট দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। যদিও ধারণা করা হচ্ছে দুই পেসার ও তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে মুশফিক চার নম্বরে ব্যাটিং করলে মাহমুদউল্লাহকে আপনাআপনিই ছয় নম্বরে নেমে যেতে হচ্ছে।

মুশফিক কিপিং না করায় বাড়তি উইকেট কিপার হিসেবে সাত নম্বরে ব্যাটিং করবেন লিটন কুমার দাস। আট নম্বরে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। ৯ নম্বরে তাইজুল এবং দশ ও এগারো নম্বরে তাসকিন ও মুস্তাফিজ। কোনও কারণে একজন স্পিনার কম খেলালে তার জায়গায় কামরুল ইসলাম রাব্বির ঢোকার সম্ভবনাই বেশি।

সবকিছু মিলিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। লিটন খেলাতে গত কিছুদিন ধরে একাদশে নিয়মিত থাকা সাব্বিরকে জায়গা ছেড়ে দিতেই হচ্ছে।

/এফএইচএম/