ম্যাচটি ঘিরে দুই দলের ক্রিকেট বোর্ড বিশেষ আয়োজন করেছে। লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড দুই দলের ক্রিকেটারদের মেডেল দেবে। অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের সকল ক্রিকেটারদের নীল রঙের বিশেষ ব্লেজার উপহার দেবেন। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে ছোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের শততম টেস্টটি উদযাপন করা হবে।
ঐতিহাসিক এ ম্যাচে মুশফিকদের সামনে গল টেস্টের হতাশা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে দৃঢ় প্রত্যয়ী মুশফিক-সাকিব-তামিমরা। যেখানে লঙ্কানরা তাদের অভিষেক ম্যাচ খেলেছিলেন, সেই কলম্বোর পি সারা ওভালের ম্যাচটি দিয়ে শততম টেস্টের মাইলফলক স্পর্শ করবে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচটিকে সামনে রেখে যে চাপের মুখোমুখি টাইগাররা, সম্ভবত এর আগে কোনও ম্যাচেই এতোটা চাপে পড়েনি তারা! মুশফিক অবশ্য কোনও চাপ নিচ্ছেন না। এটাকে ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, প্রত্যাশা তাদেরকে আরও ভালো খেলতে সাহায্য করে। তারা সবাই প্রস্তুত শততম টেস্টটিকে স্মরণীয় করে রাখতে।
মুশফিক শততম টেস্ট জেতার জন্য সেরা একাদশকেই মাঠে নামাবেন। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন সেই কথা। উইকেট বিবেচনা করে তাই গল টেস্টের একাদশে একাধিক পরিববর্তন আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দুই পেসার নিয়ে বুধবার মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে বোলিং বিভাগে শুভাশীষ রায়ের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেতে পারেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
একাদশে দুটি পরিবর্তন নিশ্চিত করেই বলা যায়। উইকেট কিপার লিটন দাস ইনজুরিতে পড়ায় আবারও কিপিং গ্লাভস তুলে নিতে হচ্ছে মুশফিককে। এই মাঠেই মুশফিক প্রথমবারের মতো গ্লাভস পরে টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন,। গলে টিম ম্যানেজেমেন্টের সিদ্ধান্তের কারণে কিপিং ছেড়েও সেই কলম্বোতেই আবার গ্লাভস জোড়া হাতে পাচ্ছেন। এছাড়া ঘোষণা দিয়েই মাহমুদউল্লাহকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে লিটনের বিদায়ের পর হঠাৎ করে মাহমুদউল্লাহ যদি দলে ঢুকেও যান তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না!
এছাড়া একাদশে ইমরুলের ফেরাটা অনেকটাই নিশ্চিত। ১১ জনের একজন হিসেবে দলে অভিষেক হতে পারে মোসাদ্দেকের হোসেনের। তিনি হয়তো মাহমুদউল্লাহর পরিবর্তে সুযোগ পাবেন। মোসাদ্দেক সুযোগ না পেলে সাব্বিরের উপরই হয়তো ভরসা রাখবে টিম ম্যানেজেমেন্ট। শঙ্কাটা মুমিনুলকে নিয়েও আছে। মুমিনুলকে বসালে সাব্বির-মোসাদ্দেক দুইজনেরই সুযোগ হতে পারে একাদশে।
শততম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে দৃঢ় প্রত্যয়ী বাংলাদেশ। দলের সহঅধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছেন, ‘জয় ছাড়া আমরা ভিন্ন কিছু ভাবছি না। এই টেস্টে আমরা জিতে শততম টেস্ট উদযাপন করতে চাই।’ অধিনায়ক মুশফিকও শততম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখার মতো কিছু করে রাখতে চান।
তবে পি সারা ওভালের পরিসংখ্যান চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশকে। তিনটি টেস্টের সবগুলোই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পি সারা ওভালে খেলা টেস্টে ইনিংস ও ১৯৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই টেস্টে টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খালেদ মাসুদ।
পি সারা ওভালে লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্ট খেলেছিল ২০০৫ সালে। সামারাবীরা ও দিলশানের জোড়া সেঞ্চুরির সুবাদে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা তুলেছিল ৪৫৭ রান। দিলহারা ফার্নান্দোর বোলিং তোপে ৪৫.৪ ওভারে ১৯১ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে তারপর টাইগাররা করে ১৯৭ রান। ওই টেস্টও শেষ হয়েছিল তিন দিনে। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে ছিলেন হাবিবুল বাশার।
২০০৭ সালে তৃতীয়বারের মতো কলম্বোর এ ভেন্যুতে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে খেলা ওই টেস্টের স্মৃতি আরও বেশি দুঃস্বপ্নের। মালিঙ্গা-মুরালিধরনের বোলিং তোপে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। প্রাপ্তি ছিল, মোহাম্মদ আশরাফুলের অপরাজিত ১২৯ রানের ইনিংস।
যদিও পরিসখ্যান নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না অধিনায়ক মুশফিক, ‘গলেও আমাদের ভালো পরিসংখ্যান ছিল। কিন্তু আমরা বাজেভাবে হেরেছি। কলম্বোতে আমাদের বাজে পরিসংখ্যান হলেও এবার হয়তো ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে। আসলে পরিসংখ্যান বিবেচনা করে লাভ নেই। প্রতিটা দিনই নতুন করে শুরু করতে হবে।’
বুধবার পি সারা ওভালে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে দশটায় ম্যাচটি শুরু হবে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টেন ক্রিকেট ও চ্যানেল নাইন। অবশ্য বৃষ্টিতে খেলার সময়ে প্রভাব পড়তে পারে। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই কলম্বোতে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।
/এফএইচএম/