সাইফউদ্দিনের চোখে ‘কোরি অ্যান্ডারসন’ হওয়ার স্বপ্ন

সাইফউদ্দিনবাবা অনেক নিষেধ করলেও ক্রিকেট ব্যাট কখনও হাতছাড়া করেননি মোহাম্মদ  সাইফউদ্দিন। ছোটবেলায় তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন এলাকার বড় ভাই অপু। ক্রিকেটে তার স্বপ্নের নায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। টিভিতে তার ব্যাটিং দেখে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন প্রথম উঁকি দেয় ছোট্ট সাইফউদ্দিনের মনে। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই প্রথমবারের মতো তিনি জাতীয় দলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে সুযোগ পেয়েছেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। তার স্বপ্ন, নিউজিল্যান্ডের কোরি অ্যান্ডারসনের মতো অলরাউন্ডার হওয়ার। হয়তো তার ‘ভবিষ্যত কোরি অ্যান্ডারসন’ হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হবে আগামী মঙ্গলবার থেকে।

রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ থেকে রওনা হয়ে রাতেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাইফউদ্দিন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিংও করতে পারেন ফেনীর এই ক্রিকেটার।

আগামী জুনে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপেরও আয়োজক ক্রিকেটের আদিভূমি। ইংলিশ কন্ডিশনে কাজে লাগানোর মতো একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার অনেক দিন থেকেই খুঁজছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। অতীতে ফরহাদ হোসেন, আবুল হাসান রাজু ও আলাউদ্দিন বাবুকে দিয়ে চেষ্টা করেও কোনও সুফল পায়নি বাংলাদেশ। এবার তাই আস্থা রেখেছে সাইফউদ্দিনের উপর।

গত ২২ মার্চ শ্রীলঙ্কায় ৫০ ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলে যাওয়া সাইফউদ্দিনকে পেয়ে দারুণ খুশি বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। তার ধারণা, সাইফউদ্দিন বাংলাদেশের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন ভবিষ্যতে, ‘সাইফউদ্দিন তরুণ খেলোয়াড়। আমাদের একজন সিমিং অলরাউন্ডার খুব প্রয়োজন। সামনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আছে, ২০১৯ বিশ্বকাপ আছে। এছাড়া দেশের বাইরে অনেকগুলো সিরিজও আছে। আমার মনে হয়, সাইফউদ্দিন এই পর্যায়ে খেলার মতো ফিট। সে বেশ পরিণত। তবে টি-টোয়েন্টিতে খেলবে কিনা সেটা ম্যানেজমেন্ট, কোচ-অধিনায়ক মিলে ঠিক করবেন।’

সাইফউদ্দিনের প্রশংসা করে সুজন বলেছেন, ‘সাইফউদ্দিন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ভালো করেছে, সর্বশেষ ইমার্জিং কাপেও অসাধারণ খেলেছে। এখানে খেলার সুযোগ না পেলেও তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের সঙ্গে থেকে সে অনেক কিছু শিখতে পারবে, যা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।’

শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি ম্যাচে তেমন ভালো করতে না পারলেও বাংলাদেশে ইমার্জিং কাপে দারুণ পারফরম্যান্স ছিল সাইফউদ্দিনের। চার ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে তিনি খেলেছেন ৩৭, অপরাজিত ১৮ ও ১৩ রানের তিনটি কার্যকর ইনিংস।

প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে সাইফউদ্দিন রোমাঞ্চিত। একাদশে সুযোগ পেলে স্মরণীয় কিছু করার প্রত্যয় তার কণ্ঠে, ‘মাশরাফি ভাই ও সাকিব ভাইয়ের খেলা দেখে বড়  হয়েছি। এখন তাদের সঙ্গে একই  ড্রেসিংরুম  শেয়ার করব। ভাবতে খুব ভালো লাগছে। যেহেতু  পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে ডাকা হয়েছে, তাই আমি বোলিংয়েই বাড়তি নজর দিচ্ছি। পাশাপাশি ব্যাটিংটাও ভালো করার চেষ্টা করব। এমন কিছু করব, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হয়তো সাইফউদ্দিনের মাথায় জাতীয় দলের ক্যাপ উঠবে, ‘কোরি অ্যান্ডারসন’ হয়ে ওঠার পথে একধাপ এগিয়ে যাবেন তিনি।

সাইফউদ্দিনের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্পটা বেশ নাটকীয়। বাবার চোখরাঙানি উপেক্ষা করে এলাকার বড় ভাই অপুর কথা শুনে একদিন হুট করে চলে যান ট্রায়ালে। প্রথমবার ট্রায়াল থেকে বাদ পড়লেও দমে যাননি। দ্বিতীয়বার টিকে যান অনূর্ধ্ব-১৪ দলে। অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেন তিনি। অন্যদিকে সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান করেন অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাইফউদ্দিনের প্রতিভার ছটায় আলোকিত হয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। বছর চারেক আগে হোম সিরিজে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৭ ম্যাচে ১১ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ১২২ রান করেছিলেন তিনি।

ফিরতি সফরে ব্যাটিংটা ভালো না হলেও নিয়েছিলেন ৭টি উইকেট। ২০১৫ সালের এপ্রিলে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এক ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে দলকে অসাধারণ জয় উপহার দিয়েছিলেন তিনি। এক ম্যাচ পরই টেল এন্ডারদের নিয়ে ব্যাটিং করে অপরাজিত ৩৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ছিনিয়ে এনেছিলেন দুর্দান্ত জয়।

/আরআই/এএআর/