বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানালেন- বাংলাদেশ দলে তামিম, সাকিব ও মুশফিকের যোগ্য উত্তরসূরি নেই। দুই-তিনটি ম্যাচে তারা ফর্মে না থাকলেও তাই তাদের বাদ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বোর্ড তাদের অবসরে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না, সিদ্ধান্তটা নিতে হবে তাদেরকে।
বাংলাদেশের বর্তমান দলে যে কয়েকজন সিনিয়র রয়েছে, তাদের বার্তা দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি। অথচ গত কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে খেলছে অনেকে। এজন্য বাংলাদেশ অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে গত তিন-চার বছরে ভালো অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে দলকে দশ থেকে সাতে নিয়ে এসেছে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই। বিশেষ করে মাশরাফির নেতৃত্বেই বদলে গেছে বাংলাদেশ।
মাশরাফি মর্তুজা ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে চলে এসেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিসিবি এক প্রকার জোর করেই মাশরাফিকে অবসরে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য সিনিয়র যারা আছে তাদের বলে দেওয়া হয়েছে অবসরে যাওয়ার পরিকল্পনা নিজেদেরই নিতে হবে। বোর্ড কাউকে বাদ দেবে না।
বুধবার এ প্রসঙ্গে নাজমুল বলেছেন, ‘আমি সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাশরাফিকে বলেছি অন্য কারও সঙ্গে তোমাদের তুলনা করে লাভ নেই। এখন পর্যন্ত তোমাদের দেশের প্রতি যে অবদান, তোমাদের কেউ বাদ দিতে পারবে না। যতদিন পর্যন্ত আমি আছি। তোমাদের যাওয়ার পরিকল্পনা তোমাদের করতে হবে!’
তিনি আরও যোগ করে বলেছেন, ‘শৃঙ্খলাজনিত কারণ ছাড়া দুই তিন ম্যাচ খারাপ করলে তোমাদের বাদ পড়ার কোনও সুযোগ নেই। সাকিবকে কে বাদ দেবে, তার মতো খেলোয়াড় কেউ আছে নাকি। তামিম আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। মুশফিক তো আমাদের ব্যাটিং স্তম্ভ। সবাই আউট হলে মুশফিক দাঁড়িয়ে থাকবে এটা বিশ্বাস করি। ভারতের রাহুল দ্রাবিড় যেমন ছিল। আমাদের মুশফিক হচ্ছে রাহুল দ্রাবিড়। কাজেই ওদেরকে কে বাদ দেবে। তামিম, সাকিব, মুশফিক এদের কোনো যোগ্য উত্তরসূরি নেই বাংলাদেশে। আর থাকা খুব মুশকিলও।’
কলম্বোর বাতাসে জোর গুঞ্জন- শেষ ম্যাচে মুশফিককে বসিয়ে রেখে নুরুল হাসান সোহানকে খেলানো হতে পারে। যদিও নাজমুলের কথায় বিষয়টি তেমন দাঁড়ায় না। তামিম ও মুশফিকের প্রশংসা করে বোর্ড সভাপতি বলেছেন, ‘তামিম স্কোর করলে আমাদের রান বড় হয়। মুশফিকের জায়গায় কে আছে আমাদের? ওর কিপিং অন্যদের চেয়ে একটু খারাপ ছিল। এ সিরিজে সুন্দর কিপিং করছে। কিন্তু ব্যাটসম্যান হিসেবে কোনোদিন মুশফিককে সরাতে পারব না আমি। সাকিবকে কে সরাবে। আগে ওর ব্যাটিং ধারাবাহিক ছিল না। এখন সেটাও ধারাবাহিক হয়ে গেছে।’
/আরআই/এফএইচএম/