অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ডাটা সুরক্ষিত রাখতে হলে

নতুন একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন কেনার পর গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সেটা চালু করলেন। এরপর কিছু অ্যাপও ডাউনলোড করলেন যেমন- হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টুইটার। এরপর এগুলোতে লগইন করে ব্যবহার শুরু করলেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এগুলোতে থাকা আপনার সকল তথ্য হুমকির মধ্যে থাকে।

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনপ্রকৃতপক্ষে বর্তমানে স্মার্টফোন আমাদের ডিজিটাল পরিচয় বহন করে। যদি কোনও কারণে আমাদের স্মার্টফোন হারিয়ে যায় কিংবা চুরি হয়ে যায় তাহলে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের সেই পরিচয় হুমকির মধ্যে পড়বে। অন্য যে কেউ আমাদের ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিতে পারে সহজেই।

এছাড়াও স্মার্টফোনে থাকা ফটো গ্যালারি, এসএমএস, ব্যাংকিং পিন ইত্যাদি চুরি যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই নিজের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনকে সুরক্ষিত করতে হলে-

১. আপনার ফোনে যে তথ্য আছে সেগুলোকে সুরক্ষিত করার প্রথম ধাপ হলো স্ক্রিন-লক ব্যবহার করা। এজন্য আপনার ডিভাইসের ‘সেটিংস’ অপশনে যান। তারপর সেখান থেকে ‘সিকিউরিটি’ অপশনে গিয়ে এটা সেট করতে হবে। এই সিকিউরিটি সিস্টেমে আপনি প্যাটার্ন, পিন, পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এই চারটি অপশন থেকে যেকোনও একটি নির্বাচন করতে পারবেন। তবে এই চারটি অপশন থেকে পাসওয়ার্ড কিংবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করা ভালো। কারণ এগুলো অন্যরা সহজেই ভেদ করতে পারে না।

২. আপনার ডিজিটাল ডাটার নিরাপত্তার জন্য অ্যান্ড্রয়েডের ‘এনক্রিপ্ট’ ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। এই অপশনটি চালু করতে হলে আপনার স্মার্টফোন থেকে ‘সেটিংস’ অপশনে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে ‘সিকিউরিটি’ অপশনে গিয়েই আপনি এটা চালু করতে পারবেন। তবে কিছু কিছু স্মার্টফোনে এই অপশনটি ‘সেটিংস’ এর ‘প্রাইভেসি’ অপশনে পাওয়া যায়। এই ফিচারটি চালু করার পর আপনার অ্যাকাউন্ট ডেটা, মিউজিক, অ্যাপ, ফটো এগুলো নিরাপদে থাকবে। এমনকি তখন আপনার ফোন চুরি হলেও ভয়ের কিছু নেই।

৩. নিরাপত্তার জন্য আপনি যদি এখনও ‘অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার’ চালু না করে থাকেন তাহলে এখনই সেটা চালু করে নিন। এনক্রিপশনের মতো এটাও ‘সেটিংস’ এর ‘সিকিউরিটি’ কিংবা ‘সেটিংস’ এর ‘প্রাইভেসি’-তে পাওয়া যাবে। ফিচারটি চালু করার পর গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন-ইনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে এটা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা। যদি কাজ করে তাহলে আপনি ডাটা নিয়ে অনেকটাই চিন্তামুক্ত থাকতে পারেন।

৪. স্মার্টফোন চুরি হয়ে গেলে ‘অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার’ চালু করার পরও আপনি সেটার অবস্থান জানতে পারবেন না কিংবা হ্যান্ডসেটে থাকা সব ডাটা মুছে ফেলতে পারবেন না যদি চোর স্মার্টফোনটি বন্ধ করে রাখে কিংবা সিম কার্ড পরিবর্তন করে ফেলে। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো ‘Cerberus anti-theft’ এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করা। এই অ্যাপ ব্যবহারের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও এই অ্যাপটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ সহায়ক। স্মার্টফোন চুরি হয়ে গেলে চোর যদি সিম কার্ড পরিবর্তন করে ফেলে তারপরও এটা আপনার স্মার্টফোনের লোকেশন সম্পর্কিত এসএমএস অ্যালার্ট দেবে। যা ব্যবহারকারীকে মোবাইলটি ফিরে পেতে সহায়তা করবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন: উল্টো পথে চলছে বিএনপি
/এনএস/আপ-এমও