তারানা হালিম বলেন, সিম নিবন্ধন শুরু হওয়ার পরে মোবাইলের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের হার কমতে শুরু করেছে। কাজটি পুরোপুরি সম্পন্ন হলে এ হার আরও কমবে। কী হারে কমছে, তা আমরা প্রতিমাসে বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে জানিয়ে দেব। প্রয়োজনে গ্রাফের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হবে। সিম নিবন্ধনের ফলে বাংলাদেশের কতটুকু উপকার হয়েছে তা আমরা জানাতে চাই। আমি নিশ্চিত যে, ৩১ মের পরে এই ধরনের ঘটনা (মোবাইলফোন ভিত্তিক অপরাধ) ঘটার সুযোগটাও থাকবে না।
চট্টগ্রামে সংঘটিত মোবাইলভিত্তিক অর্থ লেনদেন পদ্ধতি বিকাশ-এর অর্থ জালিয়াতির ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তারানা হালিম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, একজন নারী তার পাসওয়ার্ডটি টাকা তোলার জন্য অন্যজনকে (রিটেইলারকে) দিয়েছিলেন। এটা দেওয়ার কথা নয়। কারণ এটা একেবারেই তার ব্যক্তিগত একটি বিষয়। এরপরেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আরও একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করতে হবে, ওই নারীর সিমটি রি-ভেরিফাইয়েড ছিল না। তবে জালিয়াত চক্রকে ধরা গেছে তাদের সিম রি-ভেরিফায়েড ছিল বলে। তিনি বলেন, বিকাশের বিষয়ে আগেও এ ধরনের অনেক ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। শুধু বিকাশ নয়, এ ধরনের মানি ট্রান্সফারে বিভিন্ন অনিয়ম, সমস্যা কিন্তু হয়েছে। কখনও কেউ ধরা পড়েননি।
আরও পড়তে পারেন: সিম নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না: তারানা হালিম
এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির মহাপরিচলাক ব্রি. জে. এমদাদ উল বারী বলেন, বারবার বলা হচ্ছে এই যে ৫৭টি সিম, সিমগুলো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আসলে ভেরিফাই করা। কথাটি আংশিক সত্যি। এই সিমগুলো রিপ্লেস করতেই হয়েছে রেজিস্ট্রেশন করে। এই জালিয়াতির আগে সিমগুলো রেজিস্ট্রেশন করা ছিল না। যদি সিমগুলো রেজিস্ট্রেশন করা থাকত, তাহলে কাজটি করার সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যেত।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত শনিবার পর্যন্ত ১০ কোটি ৯ লাখ সিমের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। যদিও দেশে মোট সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪৯ হাজার। এখনও ৩ কোটির বেশি সিম নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক সিমের কারণে সরকারের রাজস্ব আয়ে প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে তারানা হালিম বলেন, নতুন সিম বিক্রি হবে। ইন্টারনেটের ব্যবহার (ডাটা বিক্রি) বাড়ছে, শিগগিরই এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি) চালু হচ্ছে, ফোর-জির জন্য আমরা নিলামে যাব। সব মিলিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব। এটা কোনও সমস্যা করবে না।
সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শওকত মোস্তফা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবীব খান, এনআইডি প্রকল্প ও মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/এমএনএইচ/