এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শুধাংশ শেখর ভদ্র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডাক দিবস উপলক্ষে আমরা একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। প্রতিমন্ত্রী ও সচিব দেশে ফিরলে আমরা মূল অনুষ্ঠান করবো। সেই অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণসহ আরও অনেক কিছুর আয়োজন থাকবে।’
প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার আইটিইউ (ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন) এর সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে আর্জেন্টিনা সফর করছেন।
গত বছরও বিশ্ব ডাক দিবস এভাবেই পালন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৪টায় ঢাকা জিপিও’র সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ডাক বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘স্থবির ডাক বিভাগকে সচল করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সৃষ্টি হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধিও হয়েছে।’
এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছিলেন, ‘দুই বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণের পরে দেখি ডাক বিভাগে স্থবির অবস্থা। সে সময় ধরেই নেওয়া হয়েছিল ডাক বিভাগকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়। পরে আমরা বিভিন্ন সময় নতুন নতুন সেবা চালু করে দেখেছি ডাক বিভাগের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি হয়েছে। ডাক বিভাগে একটা কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডাক বিভাগে ই-কমার্স চালু করছি। মানুষ এখন ঘরে বসেই কেনাকাটা করতে পারবেন। পণ্য ক্রয়ের অর্ডার দিলে তা ডাকঘরের মাধ্যমে ক্রেতাকে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।’
ই-কমার্সের মাধ্যমে ডাক বিভাগ তার পুরনো জৌলুস ফিরে পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭৪ সালের এই দিনে সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে বিশ্ব ডাক সংস্থার (ইউপিইউ) প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে স্মরণ করে প্রতি বছর ৯ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় ডাক দিবস। বিশ্ব ডাক সংস্থা চিঠি লিখে তথ্য আদান-প্রদান এবং যোগাযোগের মাধ্যমে ডাক বিভাগে বৈশ্বিক বিপ্লবের সূচনা করে। ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ডাক সংস্থার সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য শ্রী আনন্দ মোহন এই প্রস্তাব পেশ করেন। সেবারই ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে প্রথম ঘোষণা করা হয়।