চোরাই পথে মোবাইল ফোন সেট আসায় আমদানি কমেছে

 

মোবাইল ফোন সেটের আমদানি প্রবাহদেশে চোরাই প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় কমেছে বৈধ পথে মোবাইল ফোনের আমদানি। ২০১৭ সালে যেখানে ৩ কোটি ৪৪ লাখ মোবাইলফোন বৈধ পথে দেশে এসেছে, সেখানে এ বছরের প্রথম ৯ মাসে তার পরিমাণ ২ কোটি ২০ লাখ। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজারের একটি হোটেলে এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের বিজনেস আপডেট (মোবাইলফোন আমদানি) প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইলফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) -এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি রুহল আলম আল মাহবুব, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যালোচনায় আমরা দেখতে পাই, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় সামগ্রিক বাজার কমেছে ১৭ শতাংশ। আর বাজার মূল্য হারিয়েছে ১১ শতাংশ। ফিচার ফোনের (বার ফোন) ক্ষেত্রে এই হার ১৬ আর স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এই হার ১৮ শতাংশ।

বাজারের এই অধোগতির মূল কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা অবৈধ ও চোরাই পথে মোবাইল আমদানির বিস্তারকে চিহ্নিত করেছেন। তদারকি সংস্থার অপর্যাপ্ত নজরদারি ও অভিযানের সুযোগে স্থানীয় বাজারে এদের প্রভাব ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।  

বিএমপিআইএ-এর পর্যবেক্ষণ হলো, বাজেট ঘোষণার পরপরই অবৈধ আমদানি কিছুটা বেড়ে যায়। বর্তমানে স্মার্টফোনই অবৈধ পথে বেশি আমদানি হচ্ছ। অবৈধ পথে আসা এসব স্মার্টফোনের সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। এর বাজার মূল্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে আইফোন, শাওমির বেশিরভাগ পণ্য অবৈধভাবে ও স্যামসাংয়ের ৩৫ ভাগ স্মার্টফোন ঢাকা, চট্টগ্রাম বিমান বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, দেশের মোবাইলফোনের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার। এর অন্তত ৩০ শতাংশ এখন এসব অবৈধ মোবাইল সেটের দখলে। আইফোন, স্যামসাং, শাওমির মতো চাহিদাসম্পন্ন ফোনগুলো চোরাই পথে বেশি আসছে। অবৈধ পণ্যের অনেকাংশই পুরনো ফোন ‘রিফারবিশ’-এর মাধ্যমে দেশে আসছে। তাতে গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রগুলো থেকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদে এ অবস্থা চলতে থাকলে বৈধ আমদানিকারকরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। ফলে সরকারের রাজস্বও ক্রমেই কমতে থাকবে।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা বলেন, অবৈধ আমদানি রোধ করতে সরকার গত বছর স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল সংযোজন ও উৎপাদনের অনুমতি দেয়। গত বছরের শেষ দিক থেকে দেশে মোবাইল উৎপাদন ও সংযোজন শুরু হয়েছে। কিন্তু এই সংযোজনকারীরাও প্রায় ১৫-১৭ শতাংশ শুল্ক ও কর পরিশোধ করেন মোবাইল তৈরির যন্ত্রাংশ আমদানিতে। দেশে তৈরি ও সংযোজিত মোবাইল হ্যান্ডসেটও অবৈধভাবে দেশে আসা হ্যান্ডসেটের সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। তারা মনে করেন, অবৈধ পথে মোবাইলফোন আমদানি কমানোর কার্যকরী উপায় হচ্ছে স্থানীয় উৎপাদনকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সঙ্গতিপূর্ণ নীতিমালার আওতায় নিয়ে এসে এই খাতকে প্রয়োজনীয় ছাড় দেওয়া।