ফেসবুকে কনটেন্ট মডারেশনের জন্য স্বতন্ত্র বোর্ড

facebook content supreme courtসামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকে কনটেন্ট মডারেশনের জন্য তৈরি হচ্ছে স্বতন্ত্র বোর্ড। ফেসবুকের অর্থায়ন থাকলেও এটি কাজ করতে পারবে স্বতন্ত্রভাবে। ‘ওভারসাইট বোর্ড’ নামের এই বোর্ড কনটেন্ট মডারেশনের ক্ষেত্রে অনেকটা সুপ্রিম কোর্টের মতো কাজ করবে। অর্থাৎ ফেসবুক পোস্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এককভাবে। ২০২০ সালেই কাজ শুরু করতে যাচ্ছে এটি।

জানা গেছে, কোনও ব্যবহারকারীর পোস্ট মুছে ফেললে বা ফেসবুকের কোনও কারিগরি ত্রুটির শিকার হলে তার সমাধান দেবে বোর্ডটি। এক্ষেত্রে ফেসবুকের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিষয়ক একজন গবেষক জানান, সাধারণত বর্তমানে ফেসবুক থেকে কোনও পোস্ট বা ছবি মুছে ফেললে বা নিষিদ্ধ করলে তা ফিরে পেতে হেল্প সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। কখন এর উত্তর মিলবে সেটির নির্দিষ্ট কোনও সময় থাকে না। অনেক সময় উত্তর এলেও তা কোনও নির্দিষ্ট রোবটের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়। এ কারণে কখনও জানার সুযোগ হয় না কেন পোস্ট বা ছবি মুছে ফেলা বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুধু ফেসবুকে নয়, মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার, ছবি শেয়ার করার অ্যাপ ইনস্টাগ্রামের ক্ষেত্রেও একইরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন ব্যবহারকারীরা।

ফেসবুকের নতুন বোর্ড কাজ শুরু করলে এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন ব্যবহারকারীরা। ফেসবুকের গভর্নেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক ইনিশিয়েটিভের ম্যানেজার মিলান্সি হ্যারিস ও ওভারসাইট টিমের ম্যানেজার ফে জনসন জানান, ইতোমধ্যে বোর্ডটি তৈরি করতে একটি ট্রাস্ট ফান্ড প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শুরুতে ১৩ কোটি ডলার হবে। প্রাথমিকভাবে ২০ জন বোর্ড সদস্য থাকলেও ধীরে ধীরে এই সংখ্যা ৪০ পর্যন্ত করা হতে পারে বলেও জানান তারা।

নতুন বোর্ডটি ব্যবহারকারীদের পোস্ট সংক্রান্ত সমস্যার আপিল শুনবে। এছাড়া ফেসবুকের পলিসি অ্যাডভাইজরি মতামত দেওয়া, প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি বিষয়ে মতামত, আপিল হিসেবে আলাদা কমিটি করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়গুলো দেখবে। সব বিবেচনায় বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে এবং ব্যবহারকারী চাইলে তা প্রকাশ্যে জানানো হবে।

তথ্যসূত্র: দ্য ভার্জ