ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এম. রায়হান আখতার রবিবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এমএনপির (মোবাইলফোন নম্বর নয়, অপারেটর বদলিয়ে সেবা উপভোগের প্রযুক্তি মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি) চূড়ান্ত অনুমোদন হয়ে গেছে। আজই (রবিবার) তা বিটিআরসিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিটিআরসিই নিলাম অনুষ্ঠানসহ সব আয়োজন সম্পন্ন করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বৃহস্পতিবার এটির (এমএনপি) অনুমোদন দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রয়োজন ছিল প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, সেটি আগেই পাওয়া গেছে। বাকি ছিল অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন। সেটিও মিলেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে।
ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, নেটওয়ার্ক সমস্যা, ভয়েস কলের নিম্নমান, গ্রাহক সেবার অসন্তুষ্টিই এই এমএনপি সেবার ধারণাকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্রহণ করেছে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টুজি লাইসেন্স নবায়ন গাইডলাইনের মধ্যেই এমএনপির উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে লাইসেন্সধারী অপারেটর এমএনপি চালু হলে এই সেবা বাস্তবায়ন করবে।
জানা যায়, এমএনপির নীতিমালায় (সংশোধিত) তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিলামের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিলামে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান ৬ মোবাইলফোন অপারেটরকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে এমএনপি চালু করবে। এক্ষেত্রে প্রতিবার অপারেটর বদলের জন্য গ্রাহকের ব্যয় হবে ৩০ টাকা।
অনুমোদিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স ফি ১ কোটি টাকা। বার্ষিক ফি ৫০ লাখ টাকা। লাইসেন্স প্রাপ্ত কোম্পানিকে লাইসেন্স পাওয়ার দ্বিতীয় বছর থেকে সরকারের সঙ্গে আয়ের সাড়ে ৫ শতাংশ রাজস্ব শেয়ার করতে হবে। শতভাগ বিদেশি মালিকানার কোনও কোম্পানি নিলামে অযোগ্য হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৩ জুন বিটিআরসির দেওয়া এক নির্দেশনায় মোবাইলফোন অপারেটরগুলোকে পরবর্তী ৭ মাসের এমএনপি চালু করতে বলা হয়। নির্দেশনায় এমএনপি চালুর জন্য ৩ মাসের মধ্যে সব অপারেটরকে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে বলা হয়। কনসোর্টিয়াম পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে এমএনপি সিস্টেম গড়ে তুলবে যা কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজ করবে। বেঁধে দেওয়া সময় গত বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে শেষ হয় কিন্তু চালু হয় না এমএনপি। পরবর্তী সময়ে এমএনপি চালুর জন্য একই বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেয় বিটিআরসি। ওই কমিটিকে এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি কাজের জন্য কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে আগস্ট মাসে প্রতিবেদন দেয়। সেটি ছিল অন্তবর্তীকালীন প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে এমএনপি চালু করতে ৫ বছর সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
/এইচএএইচ/