জাতীয় হ্যাকাথনে এসডিজির চিহ্নিত ১০ সমস্যার সমাধান

জাতীয় হ্যাকাথন

মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধানে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে আয়োজন করা হবে জাতীয় হ্যাকাথন। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এই হ্যাকাথনের আয়োজক। এবারের হ্যাকাথনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা  (এসডিজি) থেকে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন হয় এমন ১০টি বিষয়ের (সমস্যার) সমাধান খোঁজা হবে।

আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ বিষয়ে বলেছেন,  আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)- ২০৩০ থেকে ১০টি সমস্যা চিহ্নিত করেছি আগামী জাতীয় হ্যাকাথনের জন্য। হ্যাকাথনে এসব সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য, অসাম্য ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাসহ ১৭টি ক্ষেত্রে বিশ্বকে এগিয়ে নিতে ১৫ বছরের নতুন লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘে গৃহীত হয় গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ অধিবেশনে। এই ১৭টি বিষয়ের মধ্যে ১০টিকে বাংলাদেশের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

ইউএনডিপির আবাসিক পরিচালক পলিন ট্যামেসিস এসডিএস বিষয়ে বলেছেন,  টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি নতুন এজেন্ডার প্রতিনিধিত্ব করে। ২০৩০ সালের মধ্যে একটি টেকসই বিশ্ব গড়তে নির্দিষ্ট সময়ে তা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কেবল একটি অধিকতর টেকসই বিশ্ব নয় বরং এমন একটি বিশ্ব গড়ার ভিত্তি রচনা করতে হবে হবে যেখানে বিরাজ করবে অধিক সমতা ও সুবিচার। সমৃদ্ধি পৌঁছবে ক্রমবর্ধমানসংখ্যক মানুষের কাছে যারা আমাদের বসবাসের এই পৃথিবীটাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

দেশের অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী এসএম আশ্রাফ আবীর বলেন, এসডিজি অর্জন করতে যেসব চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতে আসবে সেসব থেকে উত্তীর্ণ হতে যে মোবাইল টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে তা জাতীয় হ্যাকাথনে খুঁজে বের করা হবে। তাহলেই এসডিজির লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে। তিনি আরও বলেন, এসডিজির যে ১৭টি বিষয় নির্ধারিত হয়েছে সেখান থেকে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় ১০টি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত হ্যাকাথনে এসব সমস্যার সমাধান পেতেই এই আয়োজন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী যে ১০টি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে তা হলো:

১.কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের আয় ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ।

২.নবজাতক এবং ৫ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যুর হার কমানো

৩.বৈশ্বিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও মৃত্যুর হারের (সংখ্যা) চেয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

৪.শিক্ষায় উন্নতির জন্য প্রশিক্ষিত ও যোগ্য শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানো।

৫. নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা, পাচার, যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের নির্যাতন কমানো।

৬.বৈশ্বিক হারের চেয়ে জ্বালানি সক্ষমতায় দ্বিগুণ হওয়া।

৭.টেকসই পর্যটনের মাধ্যমে এ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রচার, প্রসার।

৮.নগরীর বায়ুর শুদ্ধতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া।

৯.সামুদ্রিক সম্পদ ও বাজার ব্যবহারের ক্ষুদ্র জেলে গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করা।

১০.দুর্নীতি দমন।

/এইচএএইচ/