অবৈধ মোবাইল ধরতে মার্চে বসছে এনইআইআর অবকাঠামো

মোবাইল ফোন (ছবি: সংগৃহীত)অবৈধ মোবাইল ফোন চিহ্নিত করা এবং দেশে প্রবেশ বন্ধ করতে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে একটি অবকাঠামো বসানোর উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।  এই অবকাঠামো বসানোর পর দেশে কোনও অবৈধ মোবাইল ফোন প্রবেশ করলে তা এই যন্ত্রটি ধরতে পারবে এবং সে ধরনের মোবাইল সচল হতে দেবে না। এর ফলে দেশে কোনও অবৈধ মোবাইল ফোন প্রবেশ করতে পারবে না, বা অনিবন্ধিত কোনও মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না।  অবকাঠামো তৈরির কাজটি সিনেসিস আইটি নামে একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি।

জানা গেছে, বিটিআরসি একটি প্রতিযোগিতামূলক বিডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি সিনেসিস আইটিকে দিয়েছে।  সিনেসিস আইটি যন্ত্রাংশ সরবরাহ, স্থাপন ও পরিচালনা করবে এই অবকাঠামো, যা এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) নামে পরিচিত।  বিডিং প্রক্রিয়ায় টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেয়। পরে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পেয়েছে সিনেসিস আইটি।  এই প্রকল্পের মূল্য ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি গত কয়েক বছর ধরে এনইআইআর নিয়ে কাজ করছে।  অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে প্রকল্পটি।  কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই চালু করতে পারবে অবকাঠামোটি।  প্রকল্প মূল্যায়ন করে তা চূড়ান্ত করতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে চুক্তি সম্পন্ন হবে।  অন্যদিকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলছেন, শিগগিরই সিনেসিস আইটির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হবে।  আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে এনইআইআর চালু করা হতে পারে।  

এদিকে সিনেসিস আইটির গ্রুপ সিইও রূপায়ন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিনেসিস আইটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। আমরা বিটিআরসির নির্দেশিত সব নির্দেশনা মেনে কাজ করবো এবং এ সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছি।’  তিনি বলেন, ‘হার্ডওয়্যার আমদানি করতে ১৬ সপ্তাহ এবং ডাটা সেন্টার সেটআপ করতে ১২ সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।  আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সবকিছু প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে গত তিন বছরে বিটিআরসি মোবাইল ফোন আমদানিকারক, মোবাইল অপারেটর ও মোবাইল ফোন উৎপাদকদের সঙ্গে পরামর্শ করে ১১৮ মিলিয়ন আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল  ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর ডাটাবেজে যুক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে আরও যুক্ত করা হবে।  এনইআইআর চালু করা হলে কোনও সিম কার্ড অবৈধ মোবাইল সেটে (যেগুলোর আইএমইআই নম্বর ডাটাবেজে নেই)  চালু হবে না।  মোবাইল ফোনের ক্রেতারা একটি এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন হ্যান্ডসেটটি বৈধ পথে দেশে এসেছে কিনা, বা চ্যানেল অনুমোদিত কিনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মোবাইল ফোনের অবৈধ প্রবেশ (গ্রে মার্কেট) অনেক বেড়ে গিয়েছিল।  করোনার সময়ে দেশ, বিদেশে লক ডাউন শুরু হলে অবৈধ পথে দেশে মোবাইলের প্রবেশ শূন্যে নেমে আসে। এখনও গ্রে মার্কেট প্রায় শূন্য থাকায় দেশের মোবাইল ফোন উৎপাদক ও আমদানিকারকরা খুশি।  কারণ, অনুমোদিত বা চ্যানেল পণ্যের (মোবাইল) বিক্রি অনেক বেড়েছে।