উইন্ডোজ-১১ ‘ফাস্ট’ করতে মাইক্রোসফটের নতুন উদ্যোগ

‘উইন্ডোজ ১১’ সংস্করণ মুক্তির পর থেকেই পারফর্মেন্স নিয়ে ব্যবহারকারীদের অনেক অভিযোগ ছিল। লো-এন্ড সিস্টেমে বা সুনির্দিষ্টভাবে ৮ জিবি বা এর কাছাকাছি র‍্যামযুক্ত স্পেসিফিকেশনের কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১১ এর পারফরম্যান্স উন্নত করতে সম্প্রতি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অপারেটিং সিস্টেমটির মেমোরি ব্যবহারের পরিমাণ হ্রাস করার মাধ্যমে কম র‍্যামযুক্ত পিসিতেও আরও দ্রুত ও স্থিতিশীল অভিজ্ঞতা দেওয়াই তাদের বর্তমান লক্ষ্য।

মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ পারফর্মেন্স টিমের তথ্য অনুযায়ী, উইন্ডোজ ১১-এর বিভিন্ন অংশে অপ্রয়োজনীয় মেমোরি ব্যবহার শনাক্ত ও কমানোর কাজ চলছে। এর মধ্যে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস, সিস্টেম সার্ভিস এবং অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের মেমোরি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একই ৮ জিবি র‍্যামে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি অ্যাপ একসঙ্গে চালাতে পারবেন এবং সিস্টেমের ধীরগতির সমস্যাও কমবে।

এ লক্ষ্যে মাইক্রোসফট নতুন কিছু ডায়াগনস্টিক ও বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করছে, যা রিয়েল-টাইমে কোন প্রসেস অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি মেমোরি ব্যবহার করছে তা শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা বিভিন্ন অ্যাপ ও উইন্ডোজ কম্পোনেন্টের মেমোরি বরাদ্দ বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে সেগুলো অপ্টিমাইজ করছেন।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, শুধু ৮ জিবি র‍্যামের পিসিই নয়, সব কনফিগারেশনের পিসির জন্যই উইন্ডোজ ১১- এর সামগ্রিক নির্ভরযোগ্যতা, প্রতিক্রিয়ার গতি এবং স্থিতিশীলতা বাড়াতে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া এবং টেলিমেট্রি ডেটার ভিত্তিতে পারফরম্যান্স-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা হচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক বাজেট ল্যাপটপ ও ডেস্কটপে এখনও ৮ জিবি র‍্যাম ব্যবহৃত হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোসফটের এই উদ্যোগ সফল হলে অতিরিক্ত র‍্যাম আপগ্রেড ছাড়াই বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী আরও ভালো উইন্ডোজ-অভিজ্ঞতা পাবেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো জানায়নি, এসব অপ্টিমাইজেশন কোন নির্দিষ্ট আপডেট বা সংস্করণের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাবে।