বাড়ির কোনও ঘরে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হলে নতুন রাউটার, মেশ সিস্টেম বা ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার হতে পারে এর কার্যকর সমাধান। তবে কোনও অব্যবহারিত বা পুরাতন স্মার্টফোন বাসায় থাকলে, সেটিই হতে পারে সমস্যাটির অস্থায়ী কিংবা সাময়িক সমাধান। অধিকাংশ স্মার্টফোনেই রয়েছে বিল্ট-ইন হটস্পট সুবিধা, যা ব্যবহার করে মূল ওয়াই-ফাই সংযোগকে আবার সম্প্রচার করার মাধ্যমে দুর্বল সিগন্যালযুক্ত জায়গায় ওয়াই-ফাই সিগন্যাল পৌঁছানো যায়।
১. পুরোনো ফোনটি প্রস্তুত করুন
প্রথমে এমন একটি স্মার্টফোন নিন, যেটি এখনও সচল এবং ওয়াই-ফাই ও হটস্পট সুবিধা সমর্থন করে। ফোনটি পুরোপুরি চার্জ করে সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করে নিন। যেহেতু হটস্পট চালু থাকলে ব্যাটারি তুলনামূলকভাবে দ্রুত শেষ হতে পারে, তাই ফোনটি এমন জায়গায় রাখা ভালো যেখানে সহজে চার্জ দেওয়া যায়।
২. ফোনটিকে মূল ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত করুন
ফোনের সেটিংসে গিয়ে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট মেনু থেকে ইন্টারনেট অপশনে গিয়ে বা সেটিংসে সরাসরি ওয়াই-ফাই অপশনে গিয়ে (ফোনভেদে সেটিংসের নাম বা অবস্থান কিছুটা আলাদা হতে পারে) বাড়ির মূল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক নির্বাচন করুন। এরপর ওয়াই-ফাইয়ের পাসওয়ার্ড দিয়ে ফোনটিকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করুন।
৩. ওয়াই-ফাই হটস্পট চালু করুন
এবার সেটিংস-এই পোর্টেবল হটস্পট বা হটস্পট এন্ড টেথারিং অপশনে গিয়ে ওয়াই-ফাই হটস্পট চালু করুন। কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নোটিফিকেশন প্যানেল থেকেও সরাসরি হটস্পট চালু করা যায়। এর মাধ্যমে ফোনটি মূল ওয়াই-ফাই সংযোগ গ্রহণ করে সেটিকে আলাদা একটি হটস্পট নেটওয়ার্ক হিসেবে পুনরায় সম্প্রচার করবে।
৪. হটস্পটের নাম ও পাসওয়ার্ড ঠিক করুন
হটস্পটের সেটিংসে গিয়ে নেটওয়ার্কের নাম পরিবর্তন করুন এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন। এতে নতুন নেটওয়ার্কটি সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং অনুমতি ছাড়া অন্য কোন ডিভাইস এতে যুক্ত হতে পারবে না।
৫. প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যান্ড বেছে নিন
ফোনটি সমর্থন করলে হটস্পটের ‘স্পিড’ বা ‘ব্যান্ড’ সেটিংস থেকে ৫ গিগাহার্টজ নির্বাচন করা যেতে পারে। কাছাকাছি থাকা ডিভাইসের ক্ষেত্রে এতে তুলনামূলক ভালো গতি পাওয়া যেতে পারে। তবে ৫ গিগাহার্টজের সিগন্যাল দেয়াল ভেদ করে তুলনামূলক কম দূরত্বে পৌঁছায়। তাই দূরের ঘর বা বেশি কভারেজের প্রয়োজন হলে ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড বেশি কার্যকর হতে পারে।
৬. রাউটার ও দুর্বল সিগন্যালের মাঝামাঝি রাখুন
সবশেষে ফোনটি মূল রাউটার এবং যে জায়গায় বা ঘরে ওয়াই-ফাই দুর্বল, তার মাঝামাঝি অবস্থানে রাখুন। একেবারে ডেড জোনে ফোন রাখলে সেটিও পর্যাপ্ত সিগন্যাল পাবে না। একই সঙ্গে ফোনটি চার্জে রাখার ব্যবস্থা করুন, কারণ দীর্ঘ সময় হটস্পট চালু থাকলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে পারে।
তবে এই পদ্ধতিতে ইন্টারনেটের গতি বাড়বে না, বরং মূল সংযোগের উপর ভিত্তি করে ক্ষেত্রবিশেষে গতি কমতেও পারে। এটি মেশ নেটওয়ার্কের মতো নির্বিঘ্ন রোমিংও দিতে পারে না এবং বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় গেলে ডিভাইসকে নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করতে হতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সাময়িকভাবে কভারেজ বাড়ানোর জন্য পুরোনো স্মার্টফোন কার্যকর সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য ডেডিকেটেড ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার বা মেশ সিস্টেমই বেশি উপযোগী।