বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা শত শত সাইবার হামলার ঘটনা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ডেটার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেটার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকে অনেক পিসি ব্যবহারকারী উইন্ডোজের সঙ্গে থাকা বিল্ট-ইন ‘উইন্ডোজ সিকিউরিটি’ অ্যান্টিভাইরাসের সুরক্ষার ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারেন না। একসময় তৃতীয় পক্ষের অ্যান্টিভাইরাস ব্যতীত পিসির সুরক্ষা অকল্পনীয় হলেও বর্তমানে উইন্ডোজ ১০ ও ১১-এর সঙ্গে থাকা উইন্ডোজ সিকিউরিটি অ্যান্টিভাইরাস অনেকটাই নির্ভরযোগ্য।
উইন্ডোজ সিকিউরিটি কী ধরনের সুরক্ষা দেয়?
উইন্ডোজ সিকিউরিটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা ফিচার পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে। এর ‘ভাইরাস এন্ড থ্রেট প্রোটেকশন’ বিভাগ থেকে বিল্ট-ইন ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার সুরক্ষা, স্ক্যান এবং রিয়েল-টাইম প্রোটেকশনের মতো সুবিধাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর পাশাপাশি ফায়ারওয়াল অ্যান্ড নেটওয়ার্ক প্রোটেকশন, অ্যাপ অ্যান্ড ব্রাউজার কন্ট্রোল, অ্যাকাউন্ট প্রোটেকশন, ডিভাইস সিকিউরিটি এবং ডিভাইস পারফরম্যান্স অ্যান্ড হেলথ-এর মতো আরও বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা বিভাগ রয়েছে।
‘ফায়ারওয়াল’ অননুমোদিত নেটওয়ার্ক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে ‘অ্যাপ অ্যান্ড ব্রাউজার কন্ট্রোল’ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতিকর অ্যাপ, ডাউনলোড ও ওয়েব কনটেন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষা সেটিংস পরিচালনা করা যায়। ‘অ্যাকাউন্ট প্রোটেকশন’ বিভাগে সাইন-ইন ও পরিচয়-সংক্রান্ত নিরাপত্তার তথ্য দেখা যায়। আর ‘ডিভাইস সিকিউরিটি’ বিভাগে হার্ডওয়্যারভিত্তিক নিরাপত্তা সুবিধা—যেমন সিকিউর বুট, টিপিএম (ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্ম মডিউল) এবং নির্দিষ্ট ডিভাইসে কোর আইসোলেশন—সংক্রান্ত তথ্য ও সেটিংস পাওয়া যায়। এসব নিরাপত্তা বিষয়ক সেটিংস উইন্ডোজ সিকিউরিটির মাধ্যমে ব্যবহারকারী খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা পিসিতে থাকা ডেটাকে দেয় নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা।
সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য কি এটি যথেষ্ট?
বর্তমানে উইন্ডোজ ১০ ও ১১-এর বিল্ট-ইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ শক্তিশালী। নিয়মিত উইন্ডোজ আপডেট করা, নিরাপদ ওয়েবসাইট ব্যবহার করা এবং সন্দেহজনক সফটওয়্যার এড়িয়ে চলার মতো কিছু সাধারণ নিয়ম মানলেই আলাদা অ্যান্টিভাইরাস ছাড়াও অধিকাংশ ব্যবহারকারীর নিরাপদ থাকার সুযোগ রয়েছে। উইন্ডোজ সিকিউরিটি থেকে সর্বোচ্চ এবং পূর্নাঙ্গ সুরক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই নিয়মিত উইন্ডোজ আপডেট করতে হবে। প্রতিটি আপডেট অত্যাধুনিক ভাইরাস বা সাইবার হামলার বিপরীতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে করে তোলে আরও সমৃদ্ধ এবং কার্যকর।
তবে কোনো অ্যান্টিভাইরাসই শতভাগ সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ফিশিং ই-মেইল, ভুয়া ওয়েবসাইট বা প্রতারণামূলক লিংকের মতো হুমকিসহ বর্তমানে সাইবার অপরাধীদের অভিনব কৌশলের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কখন তৃতীয় পক্ষের অ্যান্টিভাইরাস প্রয়োজন হতে পারে?
যারা নিয়মিত অজানা উৎস থেকে সফটওয়্যার বা ফাইল ডাউনলোড করেন কিংবা অতিরিক্ত নিরাপত্তা সুবিধা চান, তাদের জন্য তৃতীয় পক্ষের সিকিউরিটি সফটওয়্যার কার্যকর সহায়ক হতে পারে। এসব সিকিউরিটি স্যুটে উন্নত ফিশিং সুরক্ষা, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, ভিপিএন, পরিচয় সুরক্ষা এবং একাধিক ডিভাইস একসঙ্গে পরিচালনার মতো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। সর্বোপরি, সাধারণ ও সতর্ক ব্যবহারকারীদের জন্য উইন্ডোজের বিল্ট-ইন সুরক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট হলেও ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও অনলাইন কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত সুরক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
উইন্ডোজ সিকিউরিটি সহ যেকোনো অ্যান্টিভাইরাস সিস্টেম পিসির প্রাথমিক এবং অন্যতম নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করলেও, ব্যবহারকারীর সচেতনতাই চূড়ান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রজ ভূমিকা পালন করে। অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্যতম বাধা শনাক্ত করা মাত্রই সচেতন হয়ে ভাইরাস স্ক্যান বা আনুষঙ্গিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমেই ব্যাক্তিগত ডেটা নিরাপদ রাখা সম্ভব।