কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এআই সংশ্লিষ্ট গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরকে সতর্ক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের আগে নিউইয়র্কে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আলোচনায় এ প্রস্তাব উঠে এসেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের মধ্যে প্রায় আট ঘণ্টা আলোচনা হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং চীনের প্রধান বাণিজ্য আলোচক লি চেংগাংও অংশ নেন। বৈঠক শেষে বেসেন্ট জানান, এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি নতুন সংলাপ কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় কোনো এআই প্রযুক্তির কারণে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হলে, সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে দুই দেশ দ্রুত একে অপরকে সতর্ক করার সুযোগ পাবে।
প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের এআই খাতের কার্যক্রম সম্পর্কে পারস্পরিক স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং যেকোনো জরুরি অবস্থায় একটি নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা। বেসেন্ট বলেন, বিশ্বের শীর্ষ দুই এআই শক্তির মধ্যে বর্তমানে অনেক বিষয়ই স্বচ্ছ নয়। সীমান্ত পেরিয়ে প্রভাব ফেলতে পারে এমন অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মতো এআইয়ের ক্ষেত্রেও আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এ প্রস্তাবে ঠিক কোন ধরনের ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে বা সতর্কতা কীভাবে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে এখনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত বৈঠকের বিবরণে এআই নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সতর্কতা ব্যবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গত মে মাসে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকেও এআই উন্নয়ন নিয়ে সম্ভাব্য পরামর্শ কাঠামো তৈরির বিষয়টি আলোচনায় আসে। এবার নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা, এআইয়ের অস্ত্রীকরণ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলা ঠেকানোর মতো বিষয় সামনে আসতে পারে।
তবে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, উন্নত এআই চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের সরঞ্জামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিরোধ সাম্প্রতিক প্রস্তাবিত এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আলোচনার অংশ ছিল না। ফলে বর্তমান উদ্যোগের লক্ষ্য দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা কমানো নয়, বরং এআই থেকে উদ্ভূত গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সতর্কতার একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা তৈরি করা।