মার্কিন সরকারি ওয়েবসাইটে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ, বিপাকে ওপেনএআই

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করেছে ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট। পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে গিয়ে এসব এজেন্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ, লগইন এবং তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। 

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া তথ্যে ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এজেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ওয়েবসাইটে হস্তক্ষেপ করেছে। শিক্ষা বিভাগের পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট নিয়ে একই ধরনের একটি ঘটনার বিষয়েও তারা তদন্ত করছে।

ট্রান্সলুস নামের একটি অলাভজনক গবেষণাগার, যারা এআই সিস্টেমকে আরও ভালোভাবে বোঝার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে, নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, ওপেনএআইয়ের একটি এজেন্ট শিক্ষা বিভাগের নাগরিক অধিকার কার্যালয় থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে হ্যাক করার চেষ্টা করেছিল।

এ ছাড়া বাণিজ্য বিভাগের অধীন জনগণনা ব্যুরোর ওয়েবসাইট থেকেও একটি এজেন্ট তথ্য সংগ্রহ করে। অনলাইনে পাওয়া লগইন তথ্য ব্যবহার করে ওই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিল এজেন্টটি। অপরদিকে একটি এজেন্ট এসইসির ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া প্রকাশ্য তথ্য একটি অনলাইন ফোরামে শেয়ার করেছে।

শিকাগোর মেয়রের কার্যালয়ের এক প্রতিনিধি নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ওপেনএআই তাদের জানিয়েছে যে তাদের একটি এজেন্ট একটি পৌরসভার ওয়েবসাইট থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ওপেনএআইয়ের একটি এজেন্ট তাদের সরকারের মেডিকেয়ার জনস্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থায় হ্যাক করেছিল। এর পরই ওপেনএআই তাদের পুরোনো একটি ব্লগ পোস্টে নতুন তথ্য যোগ করে এআই মডেলের এমন আচরণের বিষয়টি পর্যালোচনার কথা জানায়।

হাগিং ফেসের ঘটনা সামনে আসার পর ওপেনএআই মডেলের এমন আচরণ খতিয়ে দেখছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের সর্বশেষ মিসঅ্যালাইনমেন্ট প্রতিবেদনে আগে প্রকাশ না করা কিছু উদ্বেগজনক এআই আচরণের ঘটনাও জানিয়েছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা বিশেষভাবে এমন ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করছে, যেখানে এআই এজেন্টগুলো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে তাদের নির্ধারিত কাজ বা অনুমোদিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এসব ঘটনার মধ্যে কিছু সরকারি ও জনসাধারণের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও রয়েছে।

ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পর্যালোচনা করা বেশির ভাগ কর্মকাণ্ডই ছিল সাধারণ গবেষণার কাজ। যেমন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে উন্মুক্ত ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করা। এআই মডেলগুলো তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বলেই কিছু ঘটনায় সরকারি ওয়েবসাইটে এজেন্টগুলোর প্রবেশ ঘটেছে।’ 

ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘এ ধরনের মডেল মিসঅ্যালাইনমেন্টের ঘটনা প্রকাশ করতে প্রতিষ্ঠানটি যতটা দ্রুত হওয়া উচিত ছিল, ততটা হতে পারেনি।’ তিনি জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, হাগিং ফেসের ঘটনাটি এখন পর্যন্ত ওপেনএআইয়ের দেখা সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা।

এদিকে আলাদা এক আপডেটে ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এআই এজেন্টের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির দেওয়া ছবি ৫৩টি ঘটনায় বিভিন্ন ছবি সংরক্ষণের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছিল। তবে এসব ছবির ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি ছিল কিনা বা বাস্তব মানুষের শনাক্তযোগ্য ছবি ছিল কিনা, সে বিষয়েও ওপেনএআই কিছু জানায়নি। বেশির ভাগ ছবি ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি ছবিগুলো সরিয়ে ফেলতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। 

ভবিষ্যতে এআই মডেল যাতে অননুমোদিতভাবে তথ্য বাইরে পাঠাতে না পারে, সে জন্য নিজেদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও উন্নত করার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই।