নিজের শীর্ষ দুটি প্রতিষ্ঠান ‘টেসলা’ ও ‘স্পেসএক্স’-কে একীভূত করার ধারণাটি পছন্দ করছেন ইলন মাস্ক। বর্তমানে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে নিজেই জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার স্পেসএক্সের ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক আলোচনায় মাস্ক বলেন, ‘আমার কি মনে হয়, এটি ভালো ধারণা? হ্যাঁ’।
তবে একীভূতকরণ নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন তিনি। এ জন্য দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখতে উভয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানান মাস্ক।
তিনি বলেন, কোনও লেনদেনের শর্ত নিয়ে বিশেষ কমিটিগুলো এখনও ঐকমত্যে পৌঁছায়নি। এমনকি তারা ঐকমত্যে পৌঁছাবে, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে আমার মনে হয়, একীভূত হওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব।
উল্লেখ্য টেসলার বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং স্পেসএক্সের মূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার। দুই প্রতিষ্ঠান একীভূত হলে তা ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ একীভূতকরণের ঘটনা হবে।
খবর প্রকাশের পর লেনদেন-পরবর্তী সময়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সামান্য দরপতনের মধ্যে থাকা টেসলার শেয়ারের দামও ২ শতাংশ বেড়েছে।
মহাকাশযান ও রকেট নির্মাণের পাশাপাশি স্টারলিংক ইন্টারনেট স্যাটেলাইট পরিচালনা করে স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটি এখন অ্যানথ্রোপিক ও গুগলের মতো প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য ক্লাউড কম্পিউটিং সক্ষমতা সরবরাহের ব্যবসাও সম্প্রসারণ করছে। সর্বশেষ ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, স্পেসএক্সের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এই খাত। এ থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে স্টারলিংক থেকে আয় এসেছে ৫২০ কোটি ডলার। তবে এসব আয় সত্ত্বেও স্পেসএক্স সামগ্রিকভাবে এখনও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়নি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ১১০ কোটি ডলার।
গত এক বছর ধরে মাস্ক তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কম ব্যানারের অধীনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুতে শেয়ারবাজারে যাওয়ার আগে স্পেসএক্স অধিগ্রহণ করেছিল ‘এক্সএআই’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ যা আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল।
সম্প্রতি টেসলা ও স্পেসএক্সের যৌথ উদ্যোগে কম্পিউটার চিপ তৈরির প্রকল্প ‘টেরাফ্যাব’ চালুর ঘটনাও দুই প্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
মঙ্গলবার মাস্ক বলেন, চিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ একীভূতকরণ যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে থাকা বিশেষ কমিটিগুলোর কোনওটিতেই তিনি নেই বলে জানিয়েছেন মাস্ক। টেসলা ও স্পেসএক্স- দুই প্রতিষ্ঠানেরই প্রধান নির্বাহী হওয়ায় নিজেকে এ বিষয়ে ‘স্বার্থের সংঘাত রয়েছে এমন পক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডাররাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। একীভূতকরণে টেসলার অন্তত ৫০ শতাংশ শেয়ারহোল্ডারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। মাস্কের ভাষায়, এই সমর্থন পাওয়া ‘বেশ কঠিন একটি বাধা’।
টেসলা মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হলেও সম্প্রতি মাস্ক প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ও সক্ষমতা রোবটিকস খাতে ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো খাতে স্পেসএক্সের ক্রমবর্ধমান মনোযোগ প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য বাড়িয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরপরই বাজারমূল্যের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি টেসলাকে ছাড়িয়ে যায়।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি