মোবাইল অপারেটরদের হাতে দেশ জিম্মি হতে পারে না: মোস্তাফা জব্বার

অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার কম্পিটিশন (বাফকম)-এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রাবাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার  বলেছেন, দেশে মোবাইল বিপ্লবে টেলিকম অপারেটরদের বিরাট অবদান আছে। তাদের কারণে দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও প্রায় ৬ কোটি। কিন্তু এই অবদানের জন্য তাদের হাতে পুরো দেশ জিম্মি হতে পারে না। বুধবার দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে বেসিস মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার কম্পিটিশন (বাফকম)-এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ও আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘টেলিকম অপারেটরগুলো তাদের ইচ্ছামতো ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণ করছে। প্যাকেজ বিক্রি করছে। ব্যাণ্ডউইথ কিনে বিক্রি করছে ডেটা। এখন তারা দেশের ভ্যালু অ্যাডেড সেবাসহ মোবাইল ও ইন্টারনেট নির্ভর বিভিন্ন সেবা; এমনকি ই-কমার্স খাতকে তাদের হাতের মুঠোয় নিতে চাচ্ছে।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কদিন আগেই তারা ভ্যাসের শেয়ার অর্ধেক থেকে বাড়িয়ে ৭০/৩০ করতে চেয়েছিলো। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এর আগে তারা পাইরেসির মাধ্যমে কনটেন্ট বিক্রি করতো। গান, মুভি, বই, ছবিসহ ব্যক্তিগত মেধাসম্পদকে অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভরেছে। কিছুদিন আগেও একটি টেলিকম অপারেটরের মাধ্যমে নতুন একটি জনপ্রিয় সিনেমা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই অপারেটর সংশ্লিষ্টদের অনুমতি ছাড়াই করেছে, যা অবৈধ। তাদেরকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে টেলিকম সেবা দেওয়ার জন্য। অথচ তারা ডিজিটাল সেবার নামে দেশের ই-কমার্স খাতকে নসাৎ করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে।’

মোবাইল অপারেটরদের করালে অসম প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বেসিস সভাপতি। তিনি বলেন, ‘দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরুণ উদ্যোক্তাদের বিপরীতে তাদের বড় বিনিয়োগ হুমকি স্বরুপ। তারা নিজেদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে ভিজিট করতে দিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন লোভনীয় অফার দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আমাদের ছোট ছোট কোম্পানিগুলোর টিকে থাকা দায় হবে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর টেলিকম ও আইটি কমিটির আহবায়ক এবং এসসিসিআই এর আইটি কমিটির চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ এন করিম বলেন, ‘গুটিকয়েক গোষ্ঠি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা থমকে যেতে চাই না। মনোপলি ভেঙ্গে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা তৈরিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতি আতিক-ই-রাব্বানী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে সুষ্ঠুভাবে সচল রাখতে ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের বাঁচাতে আমাদের আগে এসএমই প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর রাখতে হবে। সরকারের উচিত বিদেশি বড় প্রতিষ্ঠানকে আরও বড় না করে বরং এসব এসএমই প্রতিষ্ঠান কিভাবে টিকে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করা।’

ব্যান্ডশিল্পী মাকসুদুল হক বলেন, ‘আমরা সব খাতের লোকজনই টেলিকমের কাছে বন্দি হয়ে গেছি। গ্রামীণফোনসহ অন্যান্য অপারেটরগুলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন মহল পর্যন্ত কৌশলে নিজেদের আয়ত্বে নিয়েছে। শিল্পীরা তাদের নিজের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করতে পারছেন না এসব অপারেটরের কারণে। অনুমতি ছাড়াই গান, মুভি বা কনটেন্ট প্রকাশ করে ব্যবসা করছে এসব কথিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। আমরা টেলিকমসহ মেধাস্বত্ব বিকিয়ে দেওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চাই।’ 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, টাই ঢাকার সহ-সভাপতি ফারজানা চৌধুরী, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব, বাংলাদেশ জুনিয়র চেম্বার অব কমার্স (জেসিআই) এর সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, কনটেন্ট প্রোভাইডার অ্যান্ড অ্যাগ্রিগেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিপিএএবি) সভাপতি এ টি এম মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যান্ড আইপি ফোরামের প্রধান নির্বাহী ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মিসবাহ্ প্রমুখ।

/সিএ/এএ/