টেলিনরের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

চলমান বৈশ্বিক মহামারি বিভিন্ন সামাজিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এবং দেশজুড়ে ডিজিটালাইজেশন প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো গ্রহণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। টেলিনর রিসার্চ সম্প্রতি প্রযুক্তি নিয়ে পাঁচটি পূর্বাভাস করছে যা চলতি বছর মানুষের পথচলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনে সহায়তা করবে।

গ্রামীণফোন সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জিপি হাউজে এক অনুষ্ঠানে টেলিনরের প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট এ পূর্বাভাসগুলো নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

টেলিনর গবেষণা যেটি টেক ট্রেন্ড নামে পরিচিত তার ষষ্ঠ সংস্করণে ২০২১ সালের প্রযুক্তি দুনিয়ার পূর্বাভাস হিসাবে: দূরশিক্ষণ ও কাজ এর জন্য প্রযুক্তির উদ্ভাবন, ইন্টারনেটে সুরক্ষা বিষয়ে শঙ্কা, পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে আধিক্য একং একাকিত্ব ঘোচাতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন টেলিনর রিসার্চের হেড বিয়র্ন তালে স্যান্ডবার্গ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গবেষণার বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি আমাদের নতুন করে চিন্তা করতে শিখিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে প্রায়ই প্রতিটি খাতই এক সময় যা অসম্ভব বলে চিন্তা করা হতো সে বিষয়গুলো গ্রহণ করেছে। ২০২১ সালে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে এবং নতুনভাবে কাজের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে ও বেঁচে থাকার জন্য ডিজিটালাইজেশন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে তা প্রমাণিত হয়েছে।’

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলো তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে- এ বিষয়টি দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ডিজিটাল সেবাগুলো বৈশ্বিক মহামারি চলাকালীন সময়ে আমাদের দেশের জনগণের সুরক্ষায় ও অর্থনীতির গতিকে চলমান রাখতে দ্রুততার সাথে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশমালাগুলো গ্রহণ করা হয়েছিলো সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করেছে। মানুষকে তাদের প্রয়োজনীয় সমাধান প্রদানে উদ্যোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের জন্য গবেষণার বিষয়গুলো ভবিষৎ কর্মপন্থা সঠিকভাবে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"

২০২১ সালে  দূরশিক্ষণ ও ভার্চুয়াল শিক্ষার ইকোসিস্টেমে পরিবর্তন আনতে সহায়তার জন্য নতুন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানাচ্ছে টেলিনর রিসার্চ। বাসা থেকে কাজ করার বিষয়টি চলতি বছর ইতিমধ্যে নিউ নরমালে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে নতুন ডিজিটাল টুলগুলোর সক্ষমতা বিকাশ, দক্ষতা, ডাটা ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করবে। অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ( ভিআর) ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই  ভিত্তিক অত্যাধুনিক চ্যাটবটের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে; বিশেষ করে, যারা দীর্ঘমেয়াদে একাকীত্ব অনুভব করছেন তাদেরকে জন্য এগুলো উপকার বয়ে আনবে।

এ নিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলাকে ত্বরান্বিত করতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছি।  ডিজিটাল প্রযুক্তি বৈশ্বিক মহামারি চলাকালীন সময়ে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে। আমাদের আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন  এসেছে। এই টেক ট্রেন্ডগুলো দেখাচ্ছে যে, প্রযুক্তি ও কানেক্টিভিটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করতে, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করবে একই সাথে গ্রিন টেকের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে,  ইন্টারনেটে নিরাপদে থেকে  উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সাহায্য করবে। এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা রেগুলেটর, ইকোসিস্টেম পার্টনার, উদ্ভাবক ও পলিসি মেকারদের সাথে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ 

আনির চেীধুরী, পলিসি এডভাইজার, এটুআই; সোনিয়া বশির কবির, ফাউন্ডার এসবিকে ভেনচার এ্যান্ড এসবিকে ফাউন্ডেশান, ড. মেহতাব খানম, কাউন্সিলিং সাইকোলজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আলোচনায় অংশ নেন।