সিকবে স্টার্টআপে পাওয়া যাচ্ছে ঘরে বসে বিদেশি চিকিৎসকের সেবা

ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার একযুগ পার হয়েছে। এই সময়ে ধাপে ধাপে ডিজিটালাইজেশনে এগিয়ে চলেছে এ দেশের বিভিন্ন সেক্টর। এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসা ক্ষেত্রেও কিছুটা ডিজিটালাইজড  হয়েছে, তবে তা খুব বেশি জনগণের উপকারে আসেনি। কারণ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো, ডাক্তার এবং নার্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে সব প্রতিবেশী দেশ থেকে। 

ধনী হওয়ার দিক থেকে বাংলাদেশ গত ১০ বছর বিশ্বে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে আর আগামী ৫ বছর থাকবে তৃতীয় অবস্থানে। এই বিশাল নব্য ধনী শ্রেণির কাছে স্বাস্থ্য একটা প্রধান চিন্তার বিষয়।  তাই প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশ যায় চিকিৎসার জন্য, ব্যয় করে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। 

এই করোনার মধ্যে এই শ্রেণির লোকজন সবচেয়ে বিপদে পড়েছে। কারণ, বেশিরভাগ দেশ তার বর্ডার বন্ধ করে রেখেছিল। দেশে ১৫টিরও বেশি টেলিমেডিসিন প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে এর মধ্যে, কিন্তু এরা সবাই স্থানীয় ডাক্তারভিত্তিক টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে থাকে। সেজন্য এই বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে যারা দেশের বাইরে যেতে পারছিল না তাদের জন্য বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিমেডিসিন প্রতিষ্ঠান সিকবে ডট এক্সওয়াইজেড নিয়ে এসেছে বিদেশি ডাক্তারদের। এই প্ল্যাটফর্মে দেশে বসে বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ আছে। এমনকি প্ল্যাটফর্মটি রোগীদের বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতেও সহযোগিতা করছে।

সিকবে’র সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে ঘরে বসে দিন কিংবা রাত ২৪ ঘণ্টার যেকোনও সময় অনলাইনে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে ডাক্তারের চেম্বারে ভ্রমণের অর্থ এবং সময় সাশ্রয়ের সুযোগ থাকছে। আবার দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার মতো বিড়ম্বনাও পোহাতে হবে না। আবার ডাক্তারখানা মানেই বিভিন্ন রোগের সমাহার। আর সেখানে বিভিন্ন সংক্রামক রোগব্যাধির জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে না। 

উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিদেশ যায়। অনেক সময় শুধু ডায়াগনোসিসের জন্য যেতে হয়। কারণ, টেস্ট করার পর বড় ধরনের কোনও রোগ ধরা পড়ে না। শুধু এজন্য রোগী এবং তার আত্মীয়-স্বজনকে একটা বড় অংকের টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু সিকবে’র মাধ্যমে শহর, এমনকি গ্রামীণ একজন রোগীও ঘরে বসে বিদেশের বড় বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে। শুধু যদি কোনও জটিল রোগ ধরা পড়ে যেখানে সার্জারি লাগবে, তখনই শুধু রোগীকে দেশের বাইরে যেতে হবে। সেখানেও যাওয়ার আগেই রোগী সম্ভাব্য খরচ এবং কতদিন থাকতে হবে তার একটা ধারণা পেয়ে যাবেন। সুতরাং ওভাবে প্রস্তুতি  নিয়ে গেলে রোগীর সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচবে। 

সেবা বিষয়ক স্টার্টআপ সিকবে’র মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য শুধু একটি অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন আর ইন্টারনেট সংযোগই যথেষ্ট। কারণ, সিকবেতে দুই ধরনের অ্যাপ আছে। আবার চাইলে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার থেকেও সেবা নেওয়া যাবে।

আবার কাগজের প্রেসক্রিপশনের ছড়াছড়িও রোগীদের জন্য একটি বিড়ম্বনার বিষয়। সিকবে’র ই-প্রেসক্রিপশন এই কাগজের ঝামেলা এড়ানোর একটি বড় উপায়। এর অ্যাপে লগইন করে রোগীর ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন যেকোনও ডাক্তারকেই দেখানো যাবে।

এখানে রোগী দেখা হয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে। সিকবে’র ভিডিও কনসালটেশন ফিচার গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়েছে। রোগীরা অনলাইনে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

সিকবে শুধু রোগীর চিকিৎসার কথাই ভাবে না, বরং রোগীর তথ্যের নিরাপত্তার ব্যাপারেও প্রতিষ্ঠানটি বেশ সক্রিয়। এখানে রয়েছে ২৫৬ বিট এনক্রিপশনের ব্যবস্থা, যা একজন ব্যবহারকারী নিজে ছাড়া অন্য কারও পক্ষেই তার তথ্য দেখা সম্ভব নয়। এছাড়া এখানে রোগী বনাম চিকিৎসকের স্কোরিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। সুতরাং একজন আরেকজনকে সহজে হেনস্তাও করতে পারবে না এই সিস্টেমে।

চালু হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই  ভারত, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ৬০ জনের বেশি ডাক্তার সিকবে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০২২ সালে কমপক্ষে ৫০০ ডাক্তার এই মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেবেন।

সিকবে’র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) মোহাম্মদ আলী বলেন, সিকবে কর্তৃপক্ষ এ বছরের মধ্যে মেডিসিন ডেলিভারি এবং ল্যাব টেস্ট সিকবে অ্যাপে নিয়ে আসবে। ফলে রোগীরা এক অ্যাপ থেকেই ডাক্তার দেখানো, প্রয়োজনীয় টেস্ট করানো এবং ওষুধ কিনতে পারবেন। শুধু বিদেশি ডাক্তার থাকলেও ২০২৩ থেকে রোগীরা স্থানীয় ডাক্তারদের পরামর্শ ও সেবাও নিতে পারবেন সিকবে প্ল্যাটফর্ম থেকে।