শ্রেণিকক্ষে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠ্যসামগ্রী প্রস্তুত, এমনকি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক মূল্যায়ন—শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন নানা প্রয়োগ দেখা গেছে চীনের এবারের ১৪০তম ক্যান্টন মেলায়।
মেলায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্ল্যাকবোর্ড। এর সাহায্যে শিক্ষক সহজেই ত্রিমাত্রিক ঘনক ও আয়তঘন তৈরি করতে পারেন। বিভিন্ন অংশ কেটে বা সরিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্যামিতিক কাঠামো বোঝানোর সুযোগও রয়েছে।
প্রযুক্তিটি ১৩টি ভাষায় পাঠদান সমর্থন করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠ্যসামগ্রী ও শ্রেণিকক্ষের পরীক্ষা তৈরি করা যায়।
প্রযুক্তি প্রকৌশলী ছাই খাইহং জানালেন, ‘ত্রিমাত্রিক জ্যামিতি মডিউলের সাহায্যে দ্রুত ঘনক ও আয়তঘনের মতো আকৃতি তৈরি করা যায়। এর বিভিন্ন অংশ সরিয়ে শিক্ষার্থীরা সেগুলোর গঠন ভালোভাবে বুঝতে পারে।’
হাংচৌয়ের একটি প্রতিষ্ঠান মেলায় এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এমন একটি রোবট, যা মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও বিশ্লেষণ করে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে।
একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উপপ্রধান মেই ছাও জানালেন, ‘আলোকপ্রযুক্তির সাহায্যে ৩০ সেকেন্ডে মুখের অভিব্যক্তি ধারণ করা হয়। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, যা অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।’
ক্যান্টন মেলায় প্রদর্শিত এসব উদ্ভাবন তুলে ধরছে প্রযুক্তি ও শিক্ষার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা।
সূত্র: সিএমজি