ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন সেবায় লগইন করতে হয়। এতগুলো অ্যাকাউন্টের আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড মনে রাখা অনেকের জন্যই কঠিন। তাই গুগল ক্রোম, মাইক্রোসফট এজ, ফায়ারফক্স বা সাফারির মতো ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করার সুবিধা ব্যবহার করেন অনেকেই।
ব্রাউজার একবার পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করলে পরবর্তী সময়ে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করে দেয়। এতে লগইন করা সহজ হয় এবং সময়ও বাঁচে। তবে প্রশ্ন হলো, এই সুবিধা কতটা নিরাপদ? সব ধরনের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড কি ব্রাউজারে সংরক্ষণ করা উচিত?
ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ কীভাবে কাজ করে
বেশির ভাগ আধুনিক ব্রাউজারে একটি বিল্ট-ইন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার থাকে। কোনও ওয়েবসাইটে প্রথমবার লগইন করলে ব্রাউজার সাধারণত জানতে চায়, আপনি পাসওয়ার্ডটি সংরক্ষণ করতে চান কি না।
সংরক্ষণ করলে পরবর্তী সময়ে একই ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় ব্রাউজার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে একই অ্যাকাউন্টে একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করলে সেই তথ্যও সিঙ্ক হয়ে যায়।
এর সুবিধাগুলো কী
ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেও তা মুখস্থ রাখতে হয় না।
এ ছাড়া দ্রুত লগইন করা যায়, একই পাসওয়ার্ড বারবার টাইপ করতে হয় না এবং ভুল পাসওয়ার্ড দেওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। অনেক ব্রাউজার দুর্বল বা পুনরায় ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড শনাক্ত করেও সতর্কবার্তা দেয়।
কোথায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা মোবাইলে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হতে পারে। তবে শেয়ার করা কম্পিউটার, অফিসের ডিভাইস বা পাবলিক কম্পিউটারে এই সুবিধা ব্যবহার করলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
যদি অন্য কেউ আপনার ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারেন, তাহলে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ডেও প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরিচিত বা অন্যের ব্যবহৃত ডিভাইসে কখনোই পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা উচিত নয়।
একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না
অনেকেই একটি পাসওয়ার্ড সব অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করেন। এটি সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ভুলগুলোর একটি।
একটি ওয়েবসাইটের তথ্য ফাঁস হলে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অন্য অ্যাকাউন্টগুলোও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা জরুরি।
ডিভাইসের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ
ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করলেও ডিভাইসে যদি কোনো স্ক্রিন লক, পিন, পাসওয়ার্ড বা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ফোন বা কম্পিউটার হারিয়ে গেলে কিংবা অন্যের হাতে চলে গেলে সংরক্ষিত তথ্যও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখুন
শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। সম্ভব হলে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই ধাপের নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু রাখুন।
এতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অতিরিক্ত যাচাইকরণ ছাড়া অন্য কেউ সহজে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন না।
পাবলিক বা শেয়ার করা ডিভাইসে সতর্ক থাকুন
লাইব্রেরি, সাইবার ক্যাফে, অফিস বা বন্ধুর কম্পিউটারে লগইন করার সময় ব্রাউজারের ‘সেভ পাসওয়ার্ড’ অপশনে কখনোই সম্মতি দেওয়া উচিত নয়।
কাজ শেষে অবশ্যই অ্যাকাউন্ট থেকে সাইন আউট করুন এবং প্রয়োজনে ব্রাউজারের হিস্ট্রি ও সংরক্ষিত তথ্যও মুছে ফেলুন।
পাসওয়ার্ড নিয়মিত পর্যালোচনা করুন
বেশির ভাগ ব্রাউজারে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ডগুলো এক জায়গায় দেখা যায়। মাঝে মধ্যে সেগুলো পর্যালোচনা করুন এবং যেসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন না, সেগুলোর সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলুন।
এ ছাড়া কোনও অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে সন্দেহ হলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
কখন আলাদা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করবেন
যাদের অনেক অনলাইন অ্যাকাউন্ট রয়েছে বা নিয়মিত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়, তারা প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন।
এ ধরনের সেবায় সাধারণত শক্তিশালী এনক্রিপশন, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত সুরক্ষা সুবিধা থাকে। তবে যে সেবাই ব্যবহার করুন না কেন, সেটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
নিরাপদ ব্যবহারের জন্য যা করবেন
ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা পুরোপুরি অনিরাপদ নয়, আবার সব পরিস্থিতিতে শতভাগ নিরাপদও নয়। ব্যক্তিগত ডিভাইসে শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করা, প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা, দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু করা এবং পাবলিক কম্পিউটারে কখনোই পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ না করা, এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।