ডেটা ট্র্যাকিং কমাতে ফেসবুকের এই ৬ সেটিংস এখনই বদলে ফেলুন

ফেসবুক ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাক্সেস প্ল্যাটফর্মটিকে কতটুকু দেয়া হচ্ছে বা বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপের সঙ্গে শেয়ার হচ্ছে, তা অনেক ব্যবহারকারীরই কাছেই অজানা। পুরোনো অ্যাপ ও গেমের সংযোগ, অন্য সেবায় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন, লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য এবং ফেসবুকের বাইরের অনলাইন কার্যক্রম— এসবই ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অ্যাকাউন্টের ডিফল্ট সেটিংসের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। 

১. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও গেম সরিয়ে দিন 

ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অ্যাপ ও গেম ইনস্টল করার সময় ব্যবহারকারীর অনুমতি অনুযায়ী প্রোফাইলের তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা বা অপরিচিত অ্যাপ থাকলে সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি → সেটিংস → অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস অপশনে গিয়ে সেগুলো সরিয়ে দেওয়া যায়। প্রয়োজন না থাকলে পুরোনো সংযোগ রেখে দেওয়া নিরাপত্তার মুখে অহেতুক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

২. অপরিচিত লগইনের অ্যালার্ট চালু করুন 

ব্যবহারকারীর নিজের ডিভাইস ব্যতীত অন্য কোনও ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লগইন হলে দ্রুত জানতে লগইন অ্যালার্টস চালু রাখা অত্যন্ত কার্যকর সমাধান। সেটিংস → অ্যাকাউন্টস সেন্টার → পাসওয়ার্ড অ্যান্ড সিকিউরিটি → লগইন অ্যালার্টস অপশন থেকে অপরিচিত লগইনের জন্য নোটিফিকেশন বা ই-মেইল অ্যালার্ট চালু করা যায়। অপশনটি চালু করার পরবর্তী সময়ে যেকোনও অননুমোদিত লগইনের চেষ্টা করা মাত্রই ব্যবহারকারীর নিজের ডিভাইসে সতর্কবার্তা চলে যাবে। 

৩. অন্য অ্যাপে ফেসবুক দিয়ে লগইন বন্ধ করুন 

বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ‘লগইন উইথ ফেসবুক’ ব্যবহার করা সুবিধাজনক হলেও এতে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে ফেসবুক অ্যাপের সেটিংস থেকে অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস অপশনটি থেকে অ্যাপস, ওয়েবসাইটস অ্যান্ড গেমস নামক ফিচারটি বন্ধ করে ফেসবুককে থার্ড-পার্টি লগইন হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধাটি বন্ধ করা যায়।  

৪. প্রাইভেসি চেকাপ চালান 

ফেসবুকের প্রাইভেসি চেকাপ ফিচারটি ব্যবহার করে পোস্ট, প্রোফাইল তথ্য, যোগাযোগের তথ্য, বিজ্ঞাপন পছন্দ এবং ডেটা ব্যবহারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ এক জায়গা থেকে পর্যালোচনা করা যায়। অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে থেকে সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি→ সেটিংস → প্রাইভেসি চেকাপ-এ গিয়ে প্রতিটি বিভাগ ভালোভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিংস পরিবর্তন করুন। 

৫. লোকেশন ট্র্যাকিং নিয়ন্ত্রণ করুন 

ফেসবুক অ্যাপ ইনস্টলের সময় দেওয়া অনুমতি প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যবহারকারীর লোকেশনের অ্যাক্সেস দিয়ে থাকে, যা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফেসবুকের অ্যাক্টিভিটি লগ → ইওর ফেসবুক অ্যাক্টিভিটি অপশন থেকে লোকেশন-সংক্রান্ত পোস্ট, চেক-ইন ও তথ্য পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে দেওয়া যায়। এছাড়াও ফোনের প্রধান সেটিংস থেকে ফেসবুকের লোকেশন অনুমতি ‘নেভার’ বা ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ করা যেতে পারে। 

৬. বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং ও অফ-মেটা কার্যক্রম সীমিত করুন 

ফেসবুকের বাইরে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে করা কার্যকলাপও বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণে ব্যবহৃত হতে পারে। অ্যাকাউন্টস সেন্টার → অ্যাড প্রেফারেন্সেস সেকশন থেকে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণের বিভিন্ন অপশন পর্যালোচনা করুন। পাশাপাশি ইওর ইনফরমেশন অ্যান্ড পারমিশনস → অফ-মেটা অ্যাক্টিভিটি বিভাগে গিয়ে ফেসবুকের বাইরে আপনার সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপের তথ্য পর্যালোচনা করা, পূর্বের ডেটা মুছে ফেলা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কার্যকলাপ কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো করলে বিজ্ঞাপন পুরোপুরি বন্ধ হবে না, তবে বাইরের ডেটা ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রোফাইল তৈরির সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।