ঘরে বসেই অনলাইনে জিডি: জেনে নিন আবেদনের সহজ উপায়

বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নাগরিকদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ দিন দিন সহজলভ্য হয়ে উঠছে। আগে যেখানে যেকোনও ঘটনা বা জিনিস হারানোর পর থানায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হতো, এখন সেই সেবা মিলছে ঘরে বসেই। বাংলাদেশ পুলিশ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (https://gd.police.gov.bd)-এর মাধ্যমে দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে অনলাইনে জিডি করার সুব্যবস্থা চালু করেছে।

আবেদনের পূর্বপ্রস্তুতি

অনলাইনে জিডি করার জন্য আবেদনকারীর একটি ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত স্মার্টফোন বা কম্পিউটার, একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন নম্বর এবং ঘটনার প্রয়োজনীয় বিবরণ বা তথ্যের প্রয়োজন হবে।

অনলাইনে জিডি করার ধাপসমূহ

১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও অ্যাকাউন্ট তৈরি: প্রথমে যেকোনও ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে https://gd.police.gov.bd ঠিকানায় প্রবেশ করে ‘নিবন্ধন করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর নিজের মোবাইল নম্বর প্রদান করলে একটি ওটিপি কোড আসবে, যা দিয়ে নম্বর ভেরিফাই করতে হবে। পরবর্তীতে নাম, এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ পূরণ করে অ্যাকাউন্ট তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

২. লগইন ও ক্যাটাগরি নির্বাচন: নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পোর্টালে লগইন করতে হবে। এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘নতুন জিডি করুন’ বাটনে ক্লিক করলে ‘জিনিসপত্র হারানো’, ‘লোক নিখোঁজ’ কিংবা ‘হুমকি পাওয়া’-সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরি আসবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে।

৩. তথ্য পূরণ ও থানা নির্বাচন: পরবর্তী ধাপে অপরাধ বা ঘটনার স্থান, তারিখ, সময় এবং বিস্তারিত বিবরণ নির্ভুলভাবে লিখতে হবে। হারানো আইডি কার্ড বা প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্টের ছবি যুক্ত করার সুযোগও রয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ঘটনার অবস্থান অনুযায়ী থানা নির্বাচন করতে হবে (যা সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত হয়, তবে ম্যানুয়ালিও করা সম্ভব)।

৪. আবেদন জমা ও ট্র্যাকিং: সব তথ্য পুনরায় যাচাই করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলেই জিডি জমা হয়ে যাবে। সফল জমা শেষে একটি ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়া হবে, যা সংরক্ষণ করা আবশ্যক। ওয়েবসাইটের হোমপেজে ‘জিডি স্ট্যাটাস’ বা ‘জিডি ট্র্যাকিং’ অপশনে ট্র্যাকিং নম্বর প্রদান করে জিডির বর্তমান অগ্রগতি জানা যাবে।

নিরাপত্তা ও আইনি বৈধতা

বাংলাদেশ পুলিশের এই সরকারি উদ্যোগটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আইনি বৈধতাসম্পন্ন। অনলাইন জিডি যেকোনও অপরাধ বা ঘটনার প্রাথমিক তথ্যানুসারে আইনগতভাবে শতভাগ কার্যকর।

তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জিডিতে কোনও মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবেদনের তথ্য নির্ভুল হওয়া আবশ্যক এবং প্রয়োজনে পরবর্তীতে থানা থেকে জিডির প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করা যাবে। তদন্তের খাতিরে পুলিশ প্রতিনিধি যেন যোগাযোগ করতে পারেন, সেজন্য প্রদত্ত মোবাইল নম্বরটি সার্বক্ষণিক চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।